বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ | ২১ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৪ রবিউস সানী, ১৪৪৮ | দুপুর ১২:৫০:০০
শিরোনাম
● ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার সরকারের ● রাশমিকা রোজ আমাকে ১৫ বার ‘ভালোবাসি’ বলে: বিজয় ● নোয়াখালীর নতুন কূপে গ্যাস, দৈনিক উঠতে পারে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট ● প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন কুবির ১৬ শিক্ষার্থী ● নাসিরনগরে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলার পর অসুস্থ, স্কুলেই প্রাণ গেল শিশুর ● প্রশাসনিক জটিলতায় রুহিয়ায় বন্ধ নামজারি, চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ ● পাবিপ্রবির ১১ শিক্ষার্থী পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ● সকালে হাসিমুখে স্কুলে গিয়ে আর ফিরল না কুলসুমা, ফিরল নিথর দেহ ● প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকে যবিপ্রবির ১৬ শিক্ষার্থীর গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য ● এবিসি ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ তিন ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা ● ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার সরকারের ● রাশমিকা রোজ আমাকে ১৫ বার ‘ভালোবাসি’ বলে: বিজয় ● নোয়াখালীর নতুন কূপে গ্যাস, দৈনিক উঠতে পারে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট ● প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন কুবির ১৬ শিক্ষার্থী ● নাসিরনগরে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলার পর অসুস্থ, স্কুলেই প্রাণ গেল শিশুর ● প্রশাসনিক জটিলতায় রুহিয়ায় বন্ধ নামজারি, চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ ● পাবিপ্রবির ১১ শিক্ষার্থী পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ● সকালে হাসিমুখে স্কুলে গিয়ে আর ফিরল না কুলসুমা, ফিরল নিথর দেহ ● প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকে যবিপ্রবির ১৬ শিক্ষার্থীর গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য ● এবিসি ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ তিন ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা

রাঙামাটিতে ১০ শতক জমি নিয়ে বিরোধ, ১৮ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের চার্জশিট

মো. নাজিম আলী, রাঙামাটি প্রতিনিধি
মো. নাজিম আলী, রাঙামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৮
শেয়ার: mail
রাঙামাটিতে ১০ শতক জমি নিয়ে বিরোধ, ১৮ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের চার্জশিট

রাঙামাটি সদর উপজেলার রাঙাপানি মৌজায় ১০ শতক জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের ঘটনায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। জমি দখল, প্রতারণা, জাল কাগজপত্র তৈরি ও ব্যবহার এবং হুমকির অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে তদন্তকারী পুলিশ।

রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখের ৮৪ নম্বর অভিযোগপত্রে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর একই দিন অভিযোগপত্রটি আদালতে দাখিল করা হয়।

মামলার এজাহার ও পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, রাঙামাটি সদর উপজেলার ১০২ নম্বর রাঙাপানি মৌজার ৩৩৮১ নম্বর দাগে ৪ শতক এবং ৩৩৮৩ নম্বর দাগে ৬ শতক, মোট ১০ শতক জমি মৃত মো. আবু তাহেরের নামে রেকর্ডভুক্ত। মিউটেশন মামলা নম্বর ২৫৭/১৯৮৪-৮৫-এর মাধ্যমে তিনি ওই জমির মালিকানা লাভ করেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখার তদন্ত প্রতিবেদনেও জমাবন্দিতে ওই জমির রেকর্ড সঠিক এবং জমিটি ব্যক্তিমালিকানাধীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সরকারের ভূমি উন্নয়ন কর ছাড়া ওই জমিতে সরকারের অন্য কোনো স্বত্ব বা স্বার্থ নেই।

নথি অনুযায়ী, মো. আবু তাহের ২০১৬ সালের ২ ডিসেম্বর মারা যাওয়ার পর তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও অন্য উত্তরাধিকারীরা জমির মালিকানা দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রকৃত মালিকানা সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন ব্যক্তি জমিটিকে খাসজমি হিসেবে দেখিয়ে বিভিন্ন হলফনামা ও কাগজপত্র তৈরি করেন এবং পরবর্তী সময়ে সেগুলো জমির মালিকানার প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ব্যবহার করেন।

পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মো. ছিদ্দিককে বিক্রেতা এবং চম্পা বেগমকে ক্রেতা দেখিয়ে ২০১০ সালের ৩১ আগস্ট ১৭৮/২০১০ নম্বর একটি হলফনামা তৈরি করা হয়। পরবর্তী সময়ে চম্পা বেগম চার শতক জমিকে খাসজমি হিসেবে দাবি করে সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ ও পৌর হোল্ডিং গ্রহণ করেন বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সাইদা বেগম ওরফে শাহিদা বেগমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ওই জমি অন্যদের কাছে বিক্রি ও দখল হস্তান্তরের অভিযোগের কথাও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রতিবেদনে মৃত আবু তাহেরের নামে ১০ শতক জমি রেকর্ডভুক্ত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তে উল্লেখ করা ১০টি বিদ্যুৎ মিটারের মধ্যে চম্পা বেগম, আব্দুল খালেক ও সাইদা বেগম ওরফে শাহিদা বেগমের সংযোগের ক্ষেত্রে ভূমির মালিকানা বা ব্যবহারকারীর পক্ষে বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। পরে কোতোয়ালি থানার সহায়তায় ওই তিনটি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

বাকি সাতজন গ্রাহকের মালিকানা-সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র চাওয়া হলে তাঁরা যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শরণাপন্ন হন। তাঁদের বিষয়ে আদালতে কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে বিউবোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে মৃত আবু তাহেরের ওয়ারিশদের অভিযোগ, অভিযুক্তদের কেউই ওই জমির বৈধ মালিক নন এবং তাঁদের কাছে মালিকানার বৈধ কাগজপত্রও নেই। তাঁদের প্রশ্ন, মালিকানা-সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে পৌর হোল্ডিং ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলো।

ওয়ারিশদের আরও অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর চম্পা বেগম নিজেকে রাঙামাটি সদর থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ড জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী পরিচয় দিয়ে তাঁর ও তাঁর স্বামীর নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে হুমকি ও হয়রানি করছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চম্পা বেগম। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ২০১০ সালে মো. ছিদ্দিকের কাছ থেকে চার শতক খাসজমি কিনে সেখানে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। তাঁর কাছে খাসজমি ক্রয়ের কাগজ ছাড়া অন্য কোনো কাগজপত্র নেই। তিনি দাবি করেন, ওই জমির মালিক মৃত মো. আবু তাহের নন।

চম্পা বেগম আরও বলেন, জায়গাটি কোনো কারণে ছেড়ে দিতে হলে তিনি ছেড়ে দেবেন। মামলার বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না দাবি করে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

পুলিশের তদন্ত শেষে মো. ছিদ্দিক, চম্পা বেগম, আব্দুল খালেক, আব্দুল জলিল, তৈয়বা বেগম ওরফে তৈয়বা খাতুন, সাইদা বেগম ওরফে শাহিদা বেগমসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে জমিতে প্রবেশ, জমি দখল, প্রতারণা, জাল কাগজপত্র তৈরি ও ব্যবহার এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে পুলিশ। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

রাঙামাটিতে ১০ শতক জমি নিয়ে বিরোধ, ১৮ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের চার্জশিট

বিস্তারিত কমেন্টে