২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার সময় ইসরায়েলি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে’ সেনাবাহিনী ব্যর্থ হয়েছিল বলে স্বীকার করেছেন দেশটির চিফ অব স্টাফ এয়াল জামির। একই সঙ্গে ওই হামলার নিরাপত্তা ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে একাধিক ফ্রন্ট থেকে আকস্মিক হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদারের কথা জানিয়েছেন তিনি।
ইরনার বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, ‘আল-আকসা তুফান’ অভিযানের তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বক্তব্যে জামির এ কথা বলেন।
জামির বলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল দেশটির নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু ৭ অক্টোবরের হামলার সময় সেই দায়িত্ব পালনে সেনাবাহিনী ব্যর্থ হয়েছে।
এর আগে রোববার সামরিক ঘাঁটি গ্লিলটে সিনিয়র সেনা কমান্ডারদের এক বৈঠকে ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়ে চলমান তদন্তের কথা জানান জামির। ওই ঘটনা থেকে পাওয়া শিক্ষা বিশ্লেষণ ও যুদ্ধের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার জন্য ২০২৭ সালকে বিশেষভাবে কাজে লাগানো হবে বলেও তিনি জানান।
ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের মতে, ওই ব্যর্থতা থেকে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছে সেনাবাহিনীর ‘কৌশলগত গভীরতা’ বাড়ানো এবং একই সময়ে একাধিক ফ্রন্ট থেকে আকস্মিক হামলা মোকাবিলায় সক্ষমতা জোরদার করা। তিনি বলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে সব ফ্রন্টে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
জামিরের এই স্বীকারোক্তি এমন এক সময়ে এল, যখন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আগে ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোকে ওই অঞ্চলের অন্যতম উন্নত গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু ওই হামলা দেশটির গোয়েন্দা নজরদারি, কমান্ড কাঠামো ও সামরিক প্রস্তুতির বিভিন্ন দুর্বলতা সামনে নিয়ে আসে।
৭ অক্টোবরের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হলেও হামলা ঠেকাতে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পর্যায়ের ব্যর্থতার দায় কার কতটা, তা নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এখনো বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে হামলার আগে গোয়েন্দা তথ্য মূল্যায়ন, সামরিক প্রস্তুতি এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে।
ইসরায়েলি বিশ্লেষকেরাও বিভিন্ন সময়ে ৭ অক্টোবরের হামলাকে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বড় নিরাপত্তা আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ ঘটনার পর ইসরায়েলি সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর সক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি নিয়ে ব্যাপক পর্যালোচনা শুরু হয়।
সূত্র: পার্সটুডে
kalprakash.com/IM