রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় তিন সাংবাদিক সংগঠনের (রাবিসাস, রাবি প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটি) নেতৃবৃন্দের যৌথ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সাংবাদিক নেতাদের অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে হামলায় জড়িতদের সুস্পষ্ট পরিচয় নিশ্চিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। প্রশাসনকে নাম-পরিচয়সহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ দেওয়া সত্ত্বেও তারা মূল আসামিদের মামলায় নামভুক্ত করতে টালবাহানা করছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (রাবিসাস) সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হাসান বলেন, “প্রশাসনের প্রতি আস্থা রেখে আমরা এখনো আন্দোলনে যাইনি। আমরা আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে। তবে বিকেল ৪টার মধ্যে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আমরা রাজপথে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব।”
রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ইবতেসাম শান্ত এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “প্রশাসনের উপস্থিতিতে রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক ও পাইপের মতো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর যে নৃশংস হামলা হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসাসেবা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।”
রাবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের জিসান প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হামলাকারীদের সুনির্দিষ্ট তালিকা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো ধরনের টালবাহানা সহ্য করা হবে না। বিকেল ৪টার মধ্যে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না দেখলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, গত রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীবের নেতৃত্বে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর একদল নেতাকর্মী হামলা চালান। এতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফ উজ্জামান কোরবান, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুল, সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজু ও আগামীর সময়ের জাহিদুল ইসলামসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
kalprakash.com/IM