ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ছে। চলমান সংঘাতের মধ্যে প্রায় ২ হাজার মেরিন সেনা নিয়ে একটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। একই সময়ে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্টের নেতৃত্বে একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপও ওই অঞ্চলের দিকে যাচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরি এবং দুটি অ্যাম্ফিবিয়াস ল্যান্ডিং গ্রুপ অবস্থান করতে পারে। এসব বাহিনীর সঙ্গে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ বিপুলসংখ্যক নৌ ও বিমানসেনা থাকবে।
পেন্টাগনের ভাষ্য অনুযায়ী, কূটনৈতিক আলোচনা যে পর্যায়েই থাকুক, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সামরিক বিকল্প প্রস্তুত রাখার অংশ হিসেবেই এ সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে।
এর পাশাপাশি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও অব্যাহত রেখেছে ওয়াশিংটন। বিভিন্ন খাত ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলাচল ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারকে ঘিরে একাধিক সামরিক ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে সাত মাস ধরে চলা সংঘাতে ইরানের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন অবরোধ ও তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার কারণে দেশটির অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়েছে।
তবে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগের পথও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পৃথকভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে নিজেদের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে তেহরান জানিয়েছে, নতুন করে মার্কিন হামলা হলে তারা পাল্টা জবাবের প্রস্তুতি রাখছে।
ফলে একদিকে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো এবং অন্যদিকে কূটনৈতিক উদ্যোগ—দুই ধারার কার্যক্রমই পাশাপাশি চলছে। এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় হরমুজ প্রণালি ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপরও নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।
kalprakash.com/IM