আকাশে তখন প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতা। হঠাৎ ককপিটে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন দুই পাইলট। এর মধ্যেই বিমান থেকে যায় জরুরি বার্তা। মাত্র দুই মিনিটে বিমানটি নেমে আসে প্রায় ১৭ হাজার ফুট নিচে। ছড়িয়ে পড়ে বিমান ছিনতাইয়ের আতঙ্ক। পরে অবশ্য সেই আশঙ্কা নাকচ করে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে। বিমানটিতে প্রায় ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুবাই থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর বিমানটি থেকে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে একটি জরুরি বার্তা পাঠানো হয়।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, তখন বিমানটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল। এরপর মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে সেটি প্রায় ১৭ হাজার ফুটে নেমে আসে।
একই সময়ে ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। জরুরি বার্তা এবং বিমানের আকস্মিক উচ্চতা পরিবর্তনের কারণে ছিনতাইয়ের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বিমান ছিনতাইয়ের খবর অস্বীকার করে। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করা হয়।
জর্ডানের আকাশসীমায় থাকা বিমানটি পরে সৌদি আরবের দিকে ঘুরে যায় এবং তাবুক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।
বিমান ছিনতাইয়ের আশঙ্কা তৈরি হওয়ার পর ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কয়েকটি যুদ্ধবিমান সেটির নিরাপত্তায় এগিয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জরুরি বৈঠকও ডাকেন।
তবে শেষ পর্যন্ত কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি। বিমানটি নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে হাতাহাতির বিস্তারিত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, সিএনএন
kalprakash.com/IM