ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার চাপ মেনে নিতে চীনের অস্বীকৃতি দেশটির স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান, চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ছে, এমন কিছু সাম্প্রতিক দাবির সঙ্গে এ অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কারণে বিভিন্ন দেশকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেওয়ার পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বেইজিংয়ের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। চীনের বক্তব্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া আরোপিত একতরফা নিষেধাজ্ঞার তারা বিরোধিতা করে। ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচলসহ বিভিন্ন খাতে স্বাভাবিক সহযোগিতাও অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে বেইজিং।
চীনের এ অবস্থানকে বিশ্লেষণে দেশটির স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ থাকা সত্ত্বেও বেইজিং নিজেদের জাতীয় স্বার্থ ও পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থান বজায় রেখেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বিদেশি গণমাধ্যমে ইরান, চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার সম্পর্কে টানাপোড়েন বা অবনতির ইঙ্গিত দেওয়া হলেও এর সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, তিন দেশের মধ্যকার সহযোগিতা এখনো সক্রিয় এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক কাঠামোর মাধ্যমে তা আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
ইরান, চীন ও রাশিয়া ইউরেশীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক জোট এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর মাধ্যমে তিন দেশই নিজেদের স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এসব কাঠামোয় ইরানের অংশগ্রহণ দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বিকল্প সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
চীন ও রাশিয়ার অবস্থান সম্পর্কে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও ইরানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে যেতে আগ্রহী নয়। আন্তর্জাতিক ফোরাম, বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিষ্ঠিত রীতিনীতি অনুসরণের ওপরও তারা গুরুত্ব দিয়ে থাকে বলে ওই বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে তেহরানে বিমান চলাচল স্থগিত বা সীমিত করার বিষয়ে কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মতামতে বলা হয়েছে, এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ইরানের সঙ্গে আকাশপথের যোগাযোগ থেকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিমানবন্দর ও এভিয়েশন খাত অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। তবে মার্কিন চাপের কারণে এ যোগাযোগ কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে তার অর্থনৈতিক প্রভাব ওই দেশগুলোর ওপরই পড়তে পারে বলে মত দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরান-চীন-রাশিয়া সম্পর্ক, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এবং আঞ্চলিক বিমান চলাচল নিয়ে এসব বক্তব্যের কিছু অংশ বিশ্লেষণ ও রাজনৈতিক মতামত। এগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য নয়।
সূত্র: মেহের নিউজ
kalprakash.com/IM