ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানানো এবং এ-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ৭৬ জন শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ চাকরি হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে পশ্চিম এশিয়া স্টাডিজ অ্যাসোসিয়েশন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত এসব ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
সংগঠনটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময় শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতি, সাময়িক বরখাস্ত, প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনিক তদন্তসহ মোট ১৯৬টি শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পার্সটুডে ইরনার বরাতে জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়া স্টাডিজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী নথিভুক্ত ১৯৬টি ঘটনার মধ্যে ৭৬টি চাকরিচ্যুতির ঘটনা।
এ ছাড়া ৫৯টি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে অথবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আরও ৩৫টি ঘটনায় প্রশাসনিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানানো কিংবা এ-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কারণে এসব পদক্ষেপের মুখে পড়েছেন শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাস্তিমূলক পদক্ষেপের শিকার ব্যক্তিদের কেউ ফিলিস্তিনের সমর্থনে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন, কেউ ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় প্রকাশিত বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন। আবার কেউ ইসরায়েলি দখলদারির সমালোচনা করে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করেছেন।
নথিভুক্ত ঘটনার ৫৪ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এসব কর্মকাণ্ড শ্রেণিকক্ষের বাইরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়া স্টাডিজ অ্যাসোসিয়েশন সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার শিক্ষাঙ্গনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্তশাসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সংগঠনটির প্রতিবেদন ফিলিস্তিন ইস্যুতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিক্রিয়া এবং শিক্ষক-শিক্ষাবিদদের মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের অবকাশ তৈরি করেছে। তবে প্রতিবেদনে নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং ঘটনাভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
সূত্র: পার্সটুডে
kalprakash.com/IM