প্রায় ৪০ বছর ধরে ব্যবহার করে আসা বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথ রাতের আঁধারে টিন ও বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাগেরহাটের চিতলমারীতে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করেছেন একটি পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, হামলায় আজগর আলী মৃধা নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং নূরুল ইসলাম মৃধার স্ত্রী সুফিয়া বেগমকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের পরানপুর পূর্বপাড়ায়। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৩টার দিকে ওবায়দুর মৃধা, বক্কর মৃধা, হাবিব মৃধা, জোবায়ের মৃধা ও এবাদুল মৃধাসহ কয়েকজন লোকজন নিয়ে তাঁদের বাড়ির সামনে যান। সেখানে টিন, বাঁশ ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী নিয়ে চলাচলের পথ ঘিরে ফেলার চেষ্টা করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
আজগর আলী মৃধা বলেন, তিনি বিষয়টি ঠেকাতে গেলে জোবায়ের মৃধা ধারালো বেকা দা দিয়ে তাঁর ওপর আঘাত করেন। এতে তাঁর দুই হাতে গুরুতর জখম হয়। চিকিৎসকেরা একটি ক্ষতস্থানে পাঁচটি সেলাই দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
সুফিয়া বেগমের অভিযোগ, ঘটনার সময় তাঁকে স্টিলের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয়। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথ বন্ধ
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা যে পথ ব্যবহার করে আসছেন, সেটিই বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র পথ। বেড়া দেওয়ার পর সেই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
তাঁদের ভাষ্য, বাড়িতে নারী, শিশু ও বয়স্ক সদস্য রয়েছেন। হঠাৎ কেউ অসুস্থ হলে কিংবা কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত বাইরে বের হওয়ার সুযোগও থাকবে না।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ৪০ বছর ধরে তাঁরা ওই জায়গা ভোগদখল করে বসবাস করছেন। তাঁদের দাবি, আজগর আলী মৃধাই সেখানে প্রথম বসতি স্থাপন করেন।
থানায় অভিযোগের পরও ঘটনা
ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনার আগে ১০ সেপ্টেম্বর সুফিয়া বেগম তাঁর স্বামী নূরুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে চিতলমারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগ দেওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় রাতের বেলায় হামলা ও পথ বন্ধ করার ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ গ্রহণের পর কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয় মীমাংসা উদ্যোগ
পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আমিনুর রহমান ও মারুফ শিকদারসহ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
তাঁদের উদ্যোগে বাড়ির লোকজনের চলাচলের জন্য দুটি টিন খুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে সেখানে মিজান শেখ উপস্থিত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তিনি উত্তেজিত হয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের গালিগালাজ করেন এবং কয়েকবার মারতে উদ্যত হন।
তবে মিজান শেখের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তদন্তের দাবি
ভুক্তভোগী পরিবার বলছে, জমির মালিকানা বা দখল নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে আদালত কিংবা সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা নিষ্পত্তি করা উচিত। তাঁরা কোনো ধরনের সংঘর্ষ চান না।
তাঁদের দাবি, জমির কাগজপত্র, দখল, দীর্ঘদিনের ব্যবহার, চলাচলের পথ এবং বেড়া দেওয়ার বৈধতা যাচাই করে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক।
স্থানীয় বাসিন্দারাও বিরোধটি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, বিষয়টি দীর্ঘায়িত হলে আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
kalprakash.com/IM