আসছে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পুরো জ্বালানি তথা ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে আসবে। এ সময়ে মোট সাতটি ফ্লাইটের মাধ্যমে ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। এর সঙ্গে প্রথম ইউনিটের জন্য কিছু জ্বালানিও আসবে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন রূপপুর প্রকল্পের কর্মকর্তারা। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এয়ার স্পেস না পাওয়ায় ২৪ সেপ্টেম্বর একটি জ্বালানিবাহী কার্গো বাংলাদেশে পাঠানো যায়নি বলে জানানো হয়। তবে রূপপুর প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানিয়েছেন, এর প্রভাবে প্রকল্পের কাজের গতিতে কোনো প্রভাব পড়বে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইতোমধ্যে ইউনিট-১ এর ফুয়েল রাশিয়া থেকে এনে তা লোড করা হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর রূপপুর প্রকল্পের আরও ফুয়েল আসার কথা ছিল। তবে ইউনিট-২ এর ফুয়েল আগামী ৮ অক্টোবর আসার কথা। এখানে দুই ধরনের ফুয়েল আসবে। প্রথম ইউনিটে যে ফুয়েল লোড করা হয়েছে তার সাইকেল টাইম ১২ মাস। এ সময় পর এর একটি অংশ সরিয়ে ফেলা হবে এবং তা আবার পুনরুদ্ধার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে এবারের প্রথম দুটি ফ্লাইটে ইউনিট-১ এর প্রথম রিলোডের জন্য বৃহস্পতিবার এই ফুয়েল আসার কথা ছিল, আরেকটি আসার কথা ১ অক্টোবর। কাছাকাছি সময়ে আসার কারণে সাধারণভাবে ইউনিট-২ এর ফুয়েল আসছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর রূপপুরের জন্য জ্বালানি আসার কথা ছিল এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা তা গ্রহণের জন্য প্রস্তুতও ছিলেন। কিন্তু কোনো কারণে রাশিয়া থেকে জ্বালানিবাহী ফ্লাইটটি আসেনি। তিনি জানান, চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া রূপপুর প্রকল্প এলাকায় ফুয়েল সরবরাহ করে, তবে পারমাণবিক দ্রব্য কোনো দেশে পৌঁছানোর পর তার নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব সেই দেশের। এ হিসেবে ঢাকা থেকে রূপপুর প্রকল্পে ফুয়েল আনার নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের হলেও কমিশনের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী না থাকায় এ দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয়েছে, যারা পুলিশসহ অন্যদের নিয়ে নিরাপত্তা দিয়ে ফুয়েল প্রকল্প এলাকায় আনে। তিনি জানান, রোসাটমের পক্ষ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে রূপপুর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল যে তাদের ফ্লাইট বিলম্বিত হচ্ছে এবং তা চলতি সপ্তাহে নাও আসতে পারে, পরবর্তী সময় পরে জানানো হবে। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রয়োজনে মৌখিক তথ্যে না হয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোসাটমকে লিখিতভাবে পরবর্তী ফ্লাইটের সময় জানাতে বলা হয়েছে, তবে গতকাল বিকাল পর্যন্ত রোসাটমের পক্ষ থেকে তা জানানো হয়নি।
কবীর হোসেন আরও জানান, এ বিলম্বের কারণে রূপপুর প্রকল্পের কাজে কোনো প্রভাব পড়বে না, কারণ ইউনিট-১ এ পাঁচ মাস আগে ফুয়েল লোড করা হলেও তা এখনো উৎপাদনে যায়নি, অর্থাৎ ফুয়েল নির্ধারিত সময়সীমার আগেই চলে এসেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এয়ার স্পেসের যে জটিলতার কথা বলা হচ্ছে তাতে ধারণা করা যায়, জ্বালানিবাহী ফ্লাইটটি রাশিয়া থেকে উড্ডয়নের পর বিভিন্ন দেশের ওপর দিয়ে আসার কথা ছিল। যেহেতু এই জ্বালানি ইউরেনিয়াম এবং অত্যন্ত স্পর্শকাতর, তাই সম্ভবত কোনো দেশ তার আকাশসীমা ব্যবহারে সম্মত হয়নি। রোসাটমের হয়ে বাংলাদেশে দায়িত্বে থাকা পিআর সংস্থা ট্রাইউইন গ্রুপ শুরু থেকেই প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করে আসছে। সংস্থাটির একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, রোসাটমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসছে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের পুরো ফুয়েল বাংলাদেশে সরবরাহ করা হবে। মোট সাতটি ফ্লাইটে ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি সরবরাহের কথা রয়েছে, তবে প্রথম ইউনিটের কিছু ফুয়েল পরিবর্তনের প্রয়োজন হওয়ায় এ সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে। রোসাটমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সময়সূচি পালনে তাদের কোনো সমস্যা নেই।
kalprakash.com/IM