পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক বেনাপোল গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বেনাপোল পৌর বিএনপি। সংগঠনটির উদ্যোগে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে মোট ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ধারাবাহিকভাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু তাহের ভারতের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গত তিন মাস ধরে পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে নিয়মিতভাবে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন খালি জায়গা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রধান সড়কের আইল্যান্ড ও রাস্তার দুই পাশে প্রায় ১০ হাজার ফলজ, বনজ ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী ফুলের গাছ রোপণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
কর্মসূচির আওতায় বেনাপোল পৌর গেট থেকে সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ড এলাকা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশ ও ফুটপাতে গাছ লাগানো হয়েছে। এতে সড়কের আশপাশের পরিবেশ সবুজ হয়ে উঠছে। পাশাপাশি পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও পরিবেশ সচেতনতা বাড়ছে।
আয়োজকরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা, বায়ুদূষণ রোধ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। তাই শুধু গাছ রোপণেই সীমাবদ্ধ না থেকে পরবর্তীতে সেগুলোর সঠিক পরিচর্যা ও সংরক্ষণের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু তাহের ভারত বলেন, “বেনাপোলকে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও সবুজ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণের যে লক্ষ্য আমরা নিয়েছি, তা সফল করতে পৌর এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব শহর রেখে যেতে হলে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগাতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না; সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বেনাপোলের মতো সীমান্তবর্তী ও ব্যস্ত শহরে এমন পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের ফলে একদিকে শহরের সৌন্দর্য বাড়বে, অন্যদিকে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, ধুলাবালি ও বায়ুদূষণ কমিয়ে পরিবেশের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
‘সবুজে সাজুক বেনাপোল’ স্লোগানকে সামনে রেখে নির্ধারিত ৫০ হাজার গাছ লাগানোর এ উদ্যোগ আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
kalprakash.com/IM