পাবনা সদর উপজেলার কুলুনিয়া গ্রামে স্কুলশিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি (১০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূলহোতা হিসেবে মোস্তফা প্রামাণিক (৫০)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে হত্যার রহস্য সম্পর্কে এই মুহূর্তে কিছু জানাতে অপারগতা জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত কঠোর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
ঘটনার দিন ১৬ সেপ্টেম্বর আটক প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিককে জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, মোস্তফাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এজন্য তাকে আটকের পর গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। কীভাবে এবং কী কারণে শিশু কলিকে হত্যা করা হয়েছে, মামলার তদন্তের স্বার্থে এখনই তা বলা সম্ভব হচ্ছে না।
ওসি আরও জানান, নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে অপহরণ মামলা দায়ের করেছিলেন। সেটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়েছে। শিশুটিকে ধর্ষণের বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না; তদন্তের পর এ বিষয়ে জানা যাবে।
এদিকে এই নৃশংস হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত কঠোর শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন, পাবনা শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে ‘বেঁচে থাকার অধিকার চাই’, ‘আমার অধিকার নিয়ে ষড়যন্ত্র মানি না’, ‘শিশু অধিকার আইন বাস্তবায়ন চাই’, ‘কলি হত্যার বিচার চাই’—ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এছাড়া বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও অভিভাবকরাও মানববন্ধনে অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, কলিকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও বিচারহীনতার কারণে এ ধরনের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড বারবার ঘটে চলেছে। এখন মানুষের সহ্যক্ষমতার বাইরে চলে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। তাই এই ধর্ষণ ও হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, নিখোঁজের সাত দিন পর বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামে কামরুন্নাহার কলির বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ ছিল শিশুটি।
kalprakash.com/IM