মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে পাবনায় রাতভর বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। জেলার সদর ও চাটমোহর থানার পৃথক তিনটি স্থানে পরিচালিত এই ঝটিকা অভিযানে ১৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১০ বোতল ভারতীয় নিষিদ্ধ মাদক ‘এসকাফ’সহ পাঁচজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) গভীর রাত পর্যন্ত ডিবি পুলিশের পৃথক কয়েকটি দল অভিযানগুলো পরিচালনা করে।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার গভীর রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাবনা সদর থানার রাধানগর জুগিপাড়া আক্কেলের সাঁকো এলাকায় অভিযান চালায় ডিবির একটি দল। এ সময় প্লাবনের বাড়ির পশ্চিম পাশের ফাঁকা জায়গা থেকে পালানোর চেষ্টাকালে দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—রাধানগর জুগিপাড়ার মো. আমিন উদ্দিনের ছেলে মো. সিকন হোসেন (৩০) এবং রাধানগর মক্তবপাড়ার মো. মঞ্জুরুল ইসলাম ইমনের ছেলে মো. মাহি ইসলাম রাব্বি (২৫)। পরে তাঁদের দেহ তল্লাশি করে সিকনের কাছ থেকে ১০০ পিস এবং রাব্বির কাছ থেকে ২০ পিসসহ মোট ১২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
এর আগে শনিবার রাত ৮টার দিকে পাবনা সদর থানার ছাতিয়ানী পূর্বপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫০ পিস ইয়াবাসহ মো. বিশাল হোসেন (২৫) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ছাতিয়ানী গ্রামের মো. রাকিবুল হোসেনের ছেলে। গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের হাত থেকে পালানোর চেষ্টাকালে ধস্তাধস্তিতে ডিবির এক সদস্য ও আসামি সামান্য আহত হন।
একই রাতে সাড়ে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাটমোহর থানার মূলগ্রাম ইউনিয়নের জগতলা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে ডিবি। এ সময় মুছা মোল্লার বসতবাড়ির সামনের পাকা রাস্তা থেকে ১০ বোতল ভারতীয় মাদক ‘এসকাফ’সহ আরও দুই কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—জগতলা পূর্বপাড়ার মৃত কুরান সরকারের ছেলে মো. শাহ আলম সরকার (৬০) এবং জগতলা কাজীপুরের মৃত দিলবর আলীর ছেলে মো. ফজলুল হক (৩৯)।
ডিবি পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলা থেকে ইয়াবা ও এসকাফ এনে পাবনার স্থানীয় মাদকসেবীদের কাছে খুচরা ও পাইকারি বিক্রির কথা স্বীকার করেছে।
পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ইনচার্জ রাসিদুল ইসলাম বলেন, ‘পাবনাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করতে আমাদের অবস্থান আপসহীন ও কঠোর। যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে ডিবি পুলিশ সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছে। সে যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের শিকড় উপড়ে ফেলতে জেলাজুড়ে আমাদের এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
kalprakash.com/IM