নড়াইল সদর পৌর এলাকার একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসার ছয় শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের (বলাৎকার) অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষকের নাম মাহবুবুর রহমান (২৫)। ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে থাকা এই শিক্ষককে প্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করে নড়াইল সদর থানা পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদর পৌর এলাকার ডুমুরতলা তাফসির উদ্দিন হাফেজিয়া মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে শিক্ষকতা করতেন মাহবুবুর রহমান। গত ২৭ আগস্ট গভীর রাতে তিনি মাদ্রাসার আবাসিক ভবনে এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন করেন। পরদিন ওই শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটি তার মাকে জানায়। অভিভাবক বিষয়টি মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটিকে অবগত করলে অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সাহস সঞ্চার হয় এবং একে একে আরও পাঁচ শিক্ষার্থী একই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে সংঘটিত যৌন নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়। তারা জানায়, শিক্ষকের ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে এতদিন মুখ খোলার সাহস পায়নি।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরপরই অভিযুক্ত শিক্ষক মাহবুবুর রহমান মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেন। পরবর্তীতে গত ৫ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর নড়াইল সদর থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর টানা ১০ ঘণ্টার এক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে গাজীপুর জেলার গাছা থানার কলাগাছোর গ্রাম থেকে মাহবুবুরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
নড়াইল সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন। রোববার দুপুরে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারকের আদেশে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
kalprakash.com/IM