মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ১৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৮ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | বিকাল ৪:০৭:০৮

স্মার্ট চশমা ও নজরদারির যুগে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সংকট: গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৪
শেয়ার: mail
স্মার্ট চশমা ও নজরদারির যুগে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সংকট: গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে কলামিস্ট জনাথন লিউর বিশ্লেষণধর্মী লেখাটি নিছক কোনো প্রযুক্তিপণ্যের পর্যালোচনা নয়; বরং তা এক গভীর সামাজিক বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। প্রযুক্তির উদ্ভাবনের নামে আমরা কি এমন এক সমাজ তৈরি করছি, যেখানে মানুষের ব্যক্তিগত পরিসর, বেনামে থাকার অধিকার এবং পারস্পরিক বিশ্বাস ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাবে? মেটার রে-ব্যান স্মার্ট চশমায় ক্যামেরা, অডিও ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সমন্বয় প্রযুক্তিগতভাবে আকর্ষণীয় হলেও এর সামাজিক ঝুঁকি এখন গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাধারণত সিসিটিভি ক্যামেরা কোথায় বসানো রয়েছে তা চোখে পড়ে। কিন্তু স্মার্ট চশমার ক্যামেরা থাকে ব্যবহারকারীর চোখের সমান উচ্চতায় এবং দৃষ্টির সঙ্গে ঘোরে। ফলে একজন সাধারণ মানুষ রাস্তায় চলাচলের সময় কখন কীভাবে অন্য কারও ক্যামেরায় রেকর্ড হয়ে যাচ্ছেন, তা বোঝার সুযোগ নেই। অনুমতি ছাড়া কাউকে অজান্তে ডিজিটাল কনটেন্টে পরিণত করা এক ধরনের সুস্পষ্ট সীমালঙ্ঘন। আজ যা সাধারণ ভিডিও, কাল তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হতে পারে কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে অপব্যবহারের শিকার হতে পারে।

ডিজিটাল যুগে কেবল আইন প্রণয়ন করে এই অদৃশ্য নজরদারি রোধ করা সম্ভব নয়। কারণ ইন্টারনেটে একবার কোনো ব্যক্তিগত তথ্য বা ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা মুছে ফেলা প্রায় অসম্ভব। তাই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিতের পাশাপাশি সমাজের পক্ষ থেকেও প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন।

জনাথন লিউর মতে, স্মার্ট চশমার মতো অনুপ্রবেশকারী প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে সামাজিক উপহাস বা লজ্জাবোধ হতে পারে একটি শক্তিশালী অস্ত্র। ‘বিকৃতমনস্কদের চশমা’র মতো শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে এই ধরনের পণ্যের যথেচ্ছ ব্যবহারকে সামাজিকভাবে হেয় ও বিব্রতকর হিসেবে চিহ্নিত করার কথা বলেছেন তিনি। মানুষ কেবল আইনের ভয়ে নয়, সামাজিক অপমানের ভয়েও অনেক কাজ থেকে বিরত থাকে। তাই অন্যের অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণকে আধুনিক বা আকর্ষণীয় না দেখে অস্বস্তিকর হিসেবে দেখার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো বাস্তব সামাজিক সমস্যার সমাধানের জন্য নয়, বরং নিজেদের বাণিজ্যিক বাজার সৃষ্টির জন্য এমন পণ্য তৈরি করছে কি না—সেই প্রশ্নও তুলেছেন লেখক। জনপরিসরে অপরিচিত মানুষের পাশে নিশ্চিন্তে হাঁটা ও কথা বলার মৌলিক স্বস্তি যদি নজরদারির ভয়ে নষ্ট হয়, তবে তা সমাজের পারস্পরিক আস্থাকে ধ্বংস করবে। দিনশেষে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দেয়—আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করছি, নাকি প্রযুক্তিই ধীরে ধীরে আমাদের নিয়ন্ত্রণ করছে?

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

স্মার্ট চশমা ও নজরদারির যুগে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সংকট: গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ

বিস্তারিত কমেন্টে