জার্মানির একটি রিসোর্টের ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্যের শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী প্রিয়ন্তী উর্বী। এ ঘটনায় নেটিজেনদের একাংশের বিকৃত মানসিকতা এবং নারী শিল্পীদের প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
গত শুক্রবার ফেসবুকে নিজের একটি ভ্রমণের ভিডিও প্রকাশ করেন প্রিয়ন্তী উর্বী। সেখানে দেখা যায়, জার্মানিতে একটি ব্যতিক্রমী রিসোর্টে অবস্থান করছেন তিনি ও তাঁর সফরসঙ্গীরা; যেখানে জাহাজের পুরনো কনটেইনারকে দৃষ্টিনন্দন বাসস্থানে রূপান্তর করা হয়েছে। সেই রিসোর্টের নান্দনিক পরিবেশ ও নিজের অভিজ্ঞতাই অনুসারীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী।
তবে ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই মন্তব্যের ঘরে অনেকেই তাঁর পোশাক ও শরীর নিয়ে অশালীন মন্তব্য করতে থাকেন। বিষয়টি নজরে আসার পর শনিবার সামাজিক মাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্যের কয়েকটি স্ক্রিনশট পোস্ট করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান উর্বী।
প্রিয়ন্তী উর্বী বলেন, ‘কিছু মানুষের মন্তব্য পড়ে আমি ভীষণ অস্বস্তিতে পড়েছি। একটি মেয়ের শরীর ও পোশাক নিয়ে এমন নোংরা ভাষায় কথা বলার মধ্যে মানুষ কী আনন্দ পায়, তা আমার জানা নেই। আমার শরীর, পোশাক কিংবা ফেসবুক প্রোফাইল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কারও নেই।’
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও লেখেন, ‘যারা এসব নোংরা মন্তব্য করেছেন, তাঁদের স্ক্রিনশটগুলো সংশ্লিষ্টদের পরিবার, স্ত্রী কিংবা কাছের মানুষদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার কথাও মাথায় এসেছিল। কারণ অনেকে নিজের মা, বোন বা স্ত্রীর সামনে যে ভাষা ব্যবহার করার সাহস পান না, সামাজিক মাধ্যমে অন্য নারীদের নিয়ে অবলীলায় সেই নোংরা ভাষা ব্যবহার করেন।’
হতাশা প্রকাশ করে এই অভিনেত্রী লেখেন, ‘মাঝে মাঝে মনে হয়, জন্মের আগে এমন কী পাপ করেছিলাম যে আমার জন্ম বাংলাদেশে হলো? কিছু মানুষের মন্তব্য দেখলে নিজের দেশ আর সমাজ নিয়ে খুব অসহায় লাগে। আমি শুধু আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন এদের হেদায়েত দেন এবং আমাকে কখনো এদের মতো হওয়া থেকে রক্ষা করেন।’
kalprakash.com/IM