জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট তীব্র তাপদাহ নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ তুলে ধরতে ব্যতিক্রমী গম্ভীরা গানের আয়োজন করেছে ‘ইউরিচ’ (ইয়ুথ ইন রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ)। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের পরিচালিত এ সংগঠনটি গানের ছন্দ ও নাটকের অভিনয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা এবং সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত রাজশাহীর কাঁকনহাট রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরা গানের মাধ্যমে এ সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‘গ্রিন ভয়েসেস’ প্রজেক্টের সহযোগিতায় ঘণ্টাব্যাপী এ আয়োজনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। প্রচলিত সেমিনার বা আলোচনা সভার বাইরে গিয়ে লোকজ ঘরানার এই পরিবেশনা শুরু থেকেই দর্শক-শ্রোতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
অনুষ্ঠানে পরিবেশিত গম্ভীরায় নানা-নাতির কৌতুকপূর্ণ কথোপকথনের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকটের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়। রসিকতাপূর্ণ খুনসুটির মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ পরিবেশনায় একপর্যায়ে তুলে ধরা হয় ইউরিচ সংগঠনের পরিচিতি ও গবেষণাধর্মী কার্যক্রমের কথা।
এরপর গানে গানে সতর্কবার্তা দিয়ে জানানো হয়, তীব্র তাপপ্রবাহ (হিট ওয়েভ) স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অকালমৃত্যুর কারণ হতে পারে। এ থেকে সুরক্ষায় পর্যাপ্ত পানি পান, রোদে ছাতা ব্যবহার এবং ছায়াযুক্ত স্থানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি উষ্ণায়ন রোধে অধিক হারে বৃক্ষরোপণ ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে পরিবেশ সুরক্ষা ও জীবনের সুরক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দিয়ে বিদায় নেন শিল্পীরা।
অনুষ্ঠান উপভোগ শেষে স্থানীয় শ্রোতা ফারুক মিয়া বলেন, “গম্ভীরা গান সেই ছোটবেলায় শুনেছিলাম, দীর্ঘদিন পর আবার শুনলাম। গানে গানে এই এলাকার তীব্র গরমের সমস্যাগুলো খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে নানা-নাতি।”
ইউরিচের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক বলেন, “গম্ভীরা মূলত রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী লোকগান, যা স্থানীয় মানুষ সহজেই উপলব্ধি ও গ্রহণ করতে পারে। এ গানের মাধ্যমে আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট তাপদাহ, পানিসংকট ও খরার মতো প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলার বাস্তবমুখী বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।”
উল্লেখ্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একঝাঁক তরুণ শিক্ষার্থীর হাত ধরে যাত্রা শুরু করা সংগঠন ইউরিচ দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে কাজ করছে। গবেষণানির্ভর তথ্যের ভিত্তিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে ভবিষ্যতেও লোকসংস্কৃতির নানা মাধ্যম ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
kalprakash.com/IM