শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ | ১৩ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৫ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | রাত ১:৩১:২০

স্ত্রীর পরকীয়া ধরতে রোবট ভ্যাকুয়ামে ভিডিও ধারণ: ক্ষতিপূরণ পেয়েও কারাদণ্ড স্বামীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৮
শেয়ার: mail
স্ত্রীর পরকীয়া ধরতে রোবট ভ্যাকুয়ামে ভিডিও ধারণ: ক্ষতিপূরণ পেয়েও কারাদণ্ড স্বামীর

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রীর পরকীয়ার সন্দেহ থেকে রোবট ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করে গোপনে অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করেছিলেন তাইওয়ানের এক ব্যক্তি। পরবর্তীতে সেই ভিডিও আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করে স্ত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিকের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণও আদায় করেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত অনুমতি ছাড়া গোপনে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণের অপরাধে উল্টো ওই স্বামীকেই পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত আদালতের রায়ের নথিতে এ তথ্য জানা গেছে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিয়ে করেন ওই ব্যক্তি। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গেই বসবাস করতেন। তবে ছুটির দিনগুলোতে অবকাশ যাপনের জন্য তাঁরা নিজেদের আরেকটি বাড়িতে যেতেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ওই অবকাশকালীন বাড়িতে একটি ব্যবহৃত টুথব্রাশ দেখতে পাওয়ার পর স্ত্রীর প্রতি তাঁর সন্দেহ বাড়ে। পরবর্তীতে পার্কিং গ্যারেজের সিসিটিভি ফুটেজে তিনি এক ব্যক্তিকে দেখতে পান, যিনি এর আগেও তাঁর স্ত্রীকে গাড়িতে করে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

এর প্রায় তিন মাস পর সন্দেহের সত্যতা যাচাই করতে এক অভিনব কৌশল নেন ওই স্বামী। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দূর থেকে ছুটির বাড়িতে থাকা রোবট ভ্যাকুয়াম ক্লিনারটি চালু করেন তিনি। যন্ত্রটিতে লাইভ ভিডিও ও অডিও ধারণের সুবিধা ছিল। সেই ক্যামেরায় তিনি তাঁর স্ত্রীকে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখতে পান এবং দৃশ্যটি রেকর্ড করে সংরক্ষণ করেন।

পরবর্তীতে ওই ভিডিওকে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে স্ত্রী ও ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন স্বামী। প্রথমে তিনি ২০ লাখ তাইওয়ান ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করলেও আদালত তাঁদের সম্পর্ককে সাধারণ বন্ধুত্বের বাইরে বিবেচনা করে যৌথভাবে ৫ লাখ তাইওয়ান ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

তবে আইনি লড়াই এখানেই শেষ হয়নি। এরপর স্বামীর বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও গোপন ভিডিও ধারণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন তাঁর স্ত্রী।

আদালতে স্বামী দাবি করেন, ভিডিওটি যেহেতু দেওয়ানি আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল, তাই এটি সংগ্রহ করা বৈধ ছিল। তবে আদালত সেই যুক্তি খারিজ করে দেয়। আদালতের ভাষ্য, বৈবাহিক সম্পর্ক থাকলেও একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার অক্ষুণ্ন থাকে। ইচ্ছাকৃতভাবে গোপনে কারও ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

আদালত আরও উল্লেখ করে, রোবট ভ্যাকুয়াম চালু থাকা অবস্থায় আলো জ্বলা বা শব্দ হওয়ার বিষয়টি ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রে স্ত্রীর সম্মতির প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যায় না।

সব দিক বিবেচনা করে ব্যক্তিগত দৃশ্য বেআইনিভাবে ধারণের দায়ে ওই ব্যক্তিকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ ৫০ হাজার তাইওয়ান ডলার জরিমানা করা হয়।

তাইওয়ানের আইন অনুযায়ী, কারও অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত বা অন্তরঙ্গ কর্মকাণ্ড গোপনে ধারণ বা প্রকাশ করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৩ লাখ তাইওয়ান ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। অর্থাৎ, স্ত্রীর পরকীয়ার প্রমাণ আদালতে প্রমাণিত হলেও সেই প্রমাণ সংগ্রহের বেআইনি পদ্ধতির কারণেই শেষ পর্যন্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হচ্ছে ওই স্বামীকে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

স্ত্রীর পরকীয়া ধরতে রোবট ভ্যাকুয়ামে ভিডিও ধারণ: ক্ষতিপূরণ পেয়েও কারাদণ্ড স্বামীর

বিস্তারিত কমেন্টে