শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ | ১৩ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৫ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | রাত ১২:০৫:৫৫

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ফের হড়পা বানের শঙ্কা: উদ্ধারকাজ স্থগিত করল চীন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩১
শেয়ার: mail
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ফের হড়পা বানের শঙ্কা: উদ্ধারকাজ স্থগিত করল চীন

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

গত ২৬ আগস্ট বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা বা হড়পা বানের রেশ কাটতে না কাটতেই একই এলাকায় আবারও নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিব্বতে উদ্ধারকাজ স্থগিত করেছে চীন।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছে নতুন একটি ‘ব্যারিয়ার হ্রদের’ সন্ধান পাওয়া গেছে, যা যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের স্বার্থে আগামী তিন দিন তিব্বতে উদ্ধারকাজ স্থগিত থাকবে।

সাধারণত কোনো নদী বা জলপ্রবাহের পথ প্রাকৃতিক বাধার মুখে আটকে গিয়ে যে হ্রদ সৃষ্টি হয়, তাকে ‘ব্যারিয়ার হ্রদ’ বলা হয়। বুধবার নেপাল-তিব্বতে আঘাত হানা ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার মূল কারণও ছিল এমনই একটি ব্যারিয়ার হ্রদ। তুষারধসের কারণে নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী ভোতেকোশি নদীর উপনদী লেহেন্দে নদীর একাংশে একটি ব্যারিয়ার হ্রদ তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে পানির প্রবল চাপে হ্রদটি ভেঙে গেলে আটকে থাকা লাখ লাখ ঘনমিটার পানি লেহেন্দে নদী হয়ে ভোতেকোশিতে প্রবেশ করে। এর ফলেই বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নেপালের সীমান্তবর্তী জেলা রসুয়া এবং তিব্বতের সীমান্তবর্তী জেলা গিরংয়ে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।

ভয়াবহ ওই বন্যায় রসুয়া ও গিরংয়ে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৫০০ জন মানুষ এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৮৬৫ জন বিদেশি নাগরিক। হড়পা বানের তোড়ে লাখ লাখ টন কাদা-পাথর ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে রসুয়া, গিরং এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। নেপাল অংশে এখনও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে নতুন সন্ধান পাওয়া ব্যারিয়ার হ্রদটির অবস্থান ২৬ আগস্ট ভেঙে পড়া হ্রদের চেয়ে আরও কিছুটা উজানে, তিব্বতের ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর সংযোগস্থলে।

বর্তমানে হ্রদটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হ্রদ থেকে পানি উপচে পড়তে শুরু করেছে। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি হ্রদটিতে প্রবেশ করতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে চীন।

সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে হ্রদটির পানির স্তর ও ভৌগোলিক পরিবর্তনের ওপর গভীর নজরদারি বাড়িয়েছে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত গ্রামগুলো খালি করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সহায়তার জন্য বেইজিং এবং চেংদু থেকে বিশেষ বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ফের হড়পা বানের শঙ্কা: উদ্ধারকাজ স্থগিত করল চীন

বিস্তারিত কমেন্টে