✅ সম্পাদিত সংবাদ
ব্রাজিল দক্ষিণ আমেরিকার একমাত্র পর্তুগিজ ভাষাভাষী দেশ। আটলান্টিক মহাসাগরবেষ্টিত দেশটির আয়তন ৮৫ লাখ ১৪ হাজার ৮৭৭ বর্গকিলোমিটার। আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে এটি বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম রাষ্ট্র। দেশটির উত্তরে ভেনেজুয়েলা, গায়ানা ও সুরিনাম; উত্তর-পশ্চিমে কলম্বিয়া; পশ্চিমে বলিভিয়া ও পেরু; দক্ষিণ-পশ্চিমে আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে এবং দক্ষিণে উরুগুয়ে অবস্থিত। ১৮২২ সালে পর্তুগিজ সাম্রাজ্য থেকে স্বাধীনতা লাভকারী ব্রাজিল সংবিধান অনুযায়ী একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র।
ব্রাজিলে ইসলামের আগমন
ব্রাজিলে ইসলামের ইতিহাসের সূচনা ঘটে ১৫০০ খ্রিস্টাব্দে। বিখ্যাত পর্তুগিজ নাবিক পেদ্রো আলভারেজ কাবরাল যখন ব্রাজিল আবিষ্কার করেন, তখন তাঁর জাহাজের বহরে বেশ কয়েকজন দক্ষ মুসলিম নাবিকও ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ১৫৩৮ সাল থেকে আখ চাষ ও চিনি উৎপাদনের জন্য আফ্রিকান দাস আমদানি শুরু করে পর্তুগিজরা। প্রায় ৩০ লাখ দাসের এক বড় অংশই ছিলেন মুসলিম, যাঁরা বিশুদ্ধ আরবি ভাষায় কথা বলতেন এবং কোরআন তিলাওয়াতে পারদর্শী ছিলেন।
১৯৫৮ সালে ব্রাজিলীয় ইতিহাসবিদ জোয়াকিন দেশটির মুসলিম ঐতিহ্য নিয়ে তথ্য তুলে ধরেন। পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে মধ্যপ্রাচ্য, বিশেষ করে লেবাননের যুদ্ধপীড়িত বহু পরিবার ব্রাজিলে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করে। এ ছাড়া ফিলিস্তিন, লিবিয়া, মিসর ও জর্ডান থেকেও মুসলিম অভিবাসীদের আগমন ঘটে। বর্তমানে এই অভিবাসী ও তাঁদের উত্তরসূরিরা ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা, প্রকৌশল ও আইনি পেশাসহ দেশটির সরকারি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্যমতে ২০১০ সালে ব্রাজিলে মুসলিম জনসংখ্যা ২ লাখ ৪ হাজার থাকলেও দ্রুত প্রসারের ফলে তা বেড়ে ১৭ লাখে পৌঁছেছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশটিতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬ জন মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছেন।
মসজিদ ও ইসলামী প্রতিষ্ঠান
মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ব্রাজিলের প্রায় প্রতিটি প্রধান শহরেই গড়ে উঠেছে মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার। বর্তমানে দেশটিতে ১৫০টিরও বেশি মসজিদ রয়েছে, যা ২০০০ সালের তুলনায় চার গুণেরও বেশি। শিশুদের দ্বীনি শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অসংখ্য মক্তব, মাদ্রাসা ও ইসলামিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
রিও ডি জেনিরোতে রয়েছে সর্ববৃহৎ ইসলামিক সেন্টার ও ইসলামিক স্কুল। এ ছাড়া সাও পাওলোতেও শক্তিশালী মুসলিম কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। গত তিন দশকে ব্রাজিলে মসজিদ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি গবেষণাগার, গ্রন্থাগার, দাতব্য সংস্থা ও গণমাধ্যম কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে স্থানীয় মুসলিমরা এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকেও দেশটির মুসলিম সম্প্রদায় সার্বিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা পেয়ে আসছে।
লেখক: প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাবেক অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি।
kalprakash.com/IM