ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার ৪ নম্বর ঢোলারহাট ইউনিয়নের নোয়াপাড়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রাতের আঁধারে এক কৃষকের দেড় একর (১ একর ৫০ শতক) জমির লাউবাগান কেটে ধ্বংস করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে শতাধিক লাউগাছ কেটে ফেলায় লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন বর্গাচাষি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জমির মালিক ও প্রতিপক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে।
জমির মালিক মো. শম্ভু জানান, ২০১৭ সাল থেকে তিনি জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। বর্তমানে জমিটিতে আশরাফুল নামের এক বর্গাচাষি লাউ আবাদ করেছিলেন। কিছুদিন ধরে একই এলাকার রশিদুল মিলার খতিয়ান সূত্রে জমিটি নিজের দাবি করে বিরোধ সৃষ্টি করছেন। শম্ভুর দাবি, স্থানীয়ভাবে ও থানায় সমঝোতা বৈঠকের পরও রাতে আনুমানিক ১২টার পর লাউবাগানটি কেটে ফেলা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ রশিদুল মিলার আগেই বাগান কেটে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন এবং মঞ্জু নামের এক স্থানীয় ব্যক্তিকে গাছ কাটার জন্য ২০ হাজার টাকার চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও আইনি প্রতিকার দাবি করেছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে মো. রশিদুল মিলার বলেন, ওই দাগের জমি এসআর ও বিআরএস রেকর্ড অনুযায়ী তাঁদের পারিবারিক সম্পত্তি। জমি উদ্ধারের জন্য তিনি আগেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সালিস বৈঠকের পর নতুন তারিখ নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলাকালেই শম্ভু তাঁর ওপর মিথ্যা দায় চাপাচ্ছেন। তাঁর দাবি, তাঁকে সামাজিকভাবে ও আইনিভাবে ফাঁসানোর জন্য শম্ভু ও তাঁর লোকজন নিজেরা রাতের আঁধারে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।
গাছ কাটার চুক্তি নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা মঞ্জু এক ভিডিও বার্তায় জানান, রশিদুল মিলার তাঁকে ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন মর্মে শম্ভুর দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি নিজের নাম জড়িয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
স্থানীয় ৪ নম্বর ঢোলারহাট ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হোসেন আলী ঘটনাটিকে সাজানো চক্রান্ত বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, উভয় পক্ষকে নিয়ে পুলিশ ও আইনজীবীদের উপস্থিতিতে আলোচনা চলছিল। রাতে বৈঠক শেষ করে বাড়ি ফেরার পর সকালে গাছ কাটার খবর পাওয়া যায়। এটি রশিদুলকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে তাঁর ধারণা।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঢোলারহাট ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সবুজ রায় বলেন, কৃষক আশরাফুল দেড় একর জমিতে লাউয়ের ভালো আবাদ করেছিলেন। পূর্বশত্রুতার জেরে রাতের আঁধারে প্রায় শতাধিক লাউগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। একজন পরিশ্রমী কৃষকের ফসলের ওপর এ ধরনের আঘাত অত্যন্ত অমানবিক ও দুঃখজনক।
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
kalprakash.com/IM