নিরাপদ ও মানসম্মত মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ, আধুনিক সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি জেলায় পর্যায়ক্রমে আধুনিক ‘মিট প্রসেসিং সেন্টার’ স্থাপন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে জাতীয় বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ খাতকে আধুনিক ও রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিণত করতে আধুনিক মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র অপরিহার্য। ইতোমধ্যে সারা দেশে ১৩টি প্রসেসিং সেন্টার উদ্বোধন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় এ ধরনের মানসম্মত কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।’
তিনি আরও জানান, মাংস ও দুধের উৎপাদন বাড়াতে এবং উৎপাদন খরচ কমাতে অস্ট্রেলিয়া থেকে উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল জাতের পশুখাদ্য ঘাস দেশে আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৮৫০ জন খামারিকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিলে পশুখাদ্যে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং বাজারে মাংসের দামও সহনীয় পর্যায়ে আনা সম্ভব হবে।
মন্ত্রণালয়ের গৃহীত বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ের দুর্নীতি ও অনিয়মের তদন্তে একাধিক কমিটি কাজ করছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক ‘গোয়াল ফার্ম’ পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি বিএলআরআই কর্তৃক উদ্ভাবিত দুটি দেশীয় ভ্যাকসিনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চিড়িয়াখানা ও বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পাশাপাশি রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও বরিশালে নতুন চিড়িয়াখানা এবং নতুন সাফারি পার্ক স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ইলিশ সম্পদ রক্ষায় জেলেদের ২৪ কোটি টাকার বেশি সহায়তা এবং কোরবানিতে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পশু প্রবেশ বন্ধ করায় দেশীয় খামারিরা লাভবান হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
kalprakash.com/IM