বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইউসুফের বিরুদ্ধে এইচএসসি সনদ জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার পরও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানতে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেছেন অভিযোগকারী শিক্ষক ও একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গোলাম রব্বানী।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর তিনি এ আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে ইউসুফের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সর্বশেষ তদন্তের অগ্রগতি, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন এবং তাঁর বিরুদ্ধে গৃহীত প্রশাসনিক বা আইনগত পদক্ষেপ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
আবেদনে গোলাম রব্বানী জানতে চান, অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে (ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণ) অংশ নিচ্ছেন কি না; নিয়ে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেন ব্যবস্থা নেয়নি তার লিখিত ব্যাখ্যা। একই সঙ্গে ইউজিসি ও দুদকের চিঠি আদান-প্রদান, থানা বা আদালতে মামলা সংক্রান্ত পদক্ষেপ, সিন্ডিকেট সভার রেজুলেশন এবং ২০ কর্মদিবস পার হওয়ার পরও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণ জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট নথির সত্যায়িত কপি দাবি করেছেন তিনি।
গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আমি অভিযোগকারী হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্তের পরবর্তী কার্যক্রমের অগ্রগতি কী, তা নিশ্চিত হতেই তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেছি।’
অনুসন্ধানে জানা যায়, মো. ইউসুফের শিক্ষক নিয়োগের সময় জমা দেওয়া সনদে এইচএসসি জিপিএ ৩.০১ উল্লেখ থাকলেও রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সংরক্ষিত রেকর্ড অনুযায়ী তাঁর প্রকৃত জিপিএ ছিল ২.৯০। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নির্ধারিত শর্ত ভঙ্গ করে এই অসদুপায় অবলম্বনের বিষয়টি অভ্যন্তরীণ তদন্তে প্রমাণিত হলেও এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির মুখ দেখেনি। এমনকি একই ধরনের সনদ জালিয়াতির দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও শিক্ষক ইউসুফের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্যাম্পাসে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে উচ্চতর তদন্ত কমিটির সদস্য ও কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহ. রাশেদুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. ফেরদৌস রহমান জানান, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পূর্ণাঙ্গভাবে জমা হওয়ার পর সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক মো. ইউসুফ দাবি করেন, এ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে তিনি শিক্ষা বোর্ডের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় এ নিয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
kalprakash.com/IM