ইসলামে নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও বর্ণনার আলোকে নামাজের প্রতি মানুষের আচরণ ও মনোভাবের ওপর ভিত্তি করে তাদের প্রধানত চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে।
১. নামাজ ও এর ফরজ হওয়াকে অস্বীকারকারী:
এরা নামাজের বিধানকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে। পরকালে জাহান্নামে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো নামাজ ত্যাগ করা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, জান্নাতের অধিবাসীরা যখন জাহান্নামিদের জিজ্ঞেস করবে, “কী কারণে তোমাদের ‘সাকার’ (জাহান্নাম)-এ নিক্ষেপ করা হয়েছে?” তারা উত্তরে বলবে, “আমরা নামাজ আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না।” (সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত: ৪২-৪৩)। রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসে ইরশাদ করেছেন, “ঈমান ও কুফরের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো নামাজ ত্যাগ করা।” (তিরমিজি: ২৬১৮)।
২. মুনাফিক ও প্রদর্শনকামী নামাজি:
এ শ্রেণির মানুষ সমাজে নিজেদের অবস্থান রক্ষা বা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে অলসভাবে নামাজে দাঁড়ায় এবং অন্তরে আল্লাহর স্মরণ খুব সামান্যই থাকে। মহান আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই মুনাফিকরা আল্লাহকে ধোঁকা দিতে চায়, অথচ তিনি তাদের ধোঁকা ফিরিয়ে দেন। আর যখন তারা নামাজে দাঁড়ায়, তখন অলসভাবে দাঁড়ায়; তারা মানুষকে দেখায় এবং খুব অল্পই আল্লাহকে স্মরণ করে।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৪২)। সূরা আল-মাউনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, “অতএব দুর্ভোগ সেই নামাজিদের জন্য, যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে উদাসীন।” (সূরা মাউন, আয়াত: ৪-৫)।
৩. নামাজ নষ্টকারী ও অবহেলাকারী:
এরা নামাজ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার না করলেও অলসতা ও নফসের প্ররোচনায় নামাজের সময় পার করে দেয় কিংবা নামাজের রুকন ও শর্তগুলো যথাযথভাবে পালন না করে নামাজকে বিনষ্ট করে। আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে বলেন, “অতঃপর তাদের পরে এমন এক প্রজন্ম এলো, যারা নামাজ নষ্ট করল এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করল। ফলে তারা অচিরেই তাদের বিভ্রান্তির শাস্তি ভোগ করবে।” (সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৫৯)।
৪. নামাজে যত্নবান ও একাগ্র মুমিন (সফল শ্রেণি):
এরা হলো প্রকৃত সফল মুমিন, যারা অত্যন্ত বিনয় ও একাগ্রতার সাথে সময়মতো নামাজের শর্ত ও রুকন মেনে সালাত কায়েম করে। আল্লাহ তাআলা তাদের প্রশংসায় ঘোষণা করেছেন, “নিশ্চয়ই মুমিনরা সফল হয়েছে; যারা তাদের নামাজে বিনয়ী ও একাগ্র।” (সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত: ১-২)। এই শ্রেণির মানুষরা জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতিতে সালাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় এবং পরকালে জান্নাতুল ফিরদাউসের স্থায়ী উত্তরাধিকার লাভ করে।
kalprakash.com/IM