শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬ | ৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৭ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | রাত ১:৫২:০৭

‎স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে শতভাগ শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্তির দাবি

মো. হাছিব সরদার, নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪০
শেয়ার: mail
‎স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে শতভাগ শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্তির দাবি

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

সরকারের ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচিতে শতভাগ শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। সংশ্লিষ্টদের মতে, পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, ঝরে পড়ার হার কমেছে এবং ক্লাসে শিশুদের মনোযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বর্তমানে মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ৯০ শতাংশের জন্য খাবার বরাদ্দ থাকায় অনেক সময় উপস্থিতির তুলনায় খাদ্য ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

যশোরের কেশবপুর, অভয়নগর ও ঝিকরগাছা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে এমন বাস্তব চিত্র দেখা গেছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, তিন উপজেলার ৪০৬টি বিদ্যালয়ে (ঝিকরগাছায় ১৩১টি, অভয়নগরে ১১৭টি ও কেশবপুরে ১৫৮টি) মোট ৫৯ হাজার ৯১ জন শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে পাঁচ দিন খাদ্য তালিকায় থাকা সিদ্ধ ডিম, বনরুটি, বিস্কুট, কলা ও দুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে গঠিত পাঁচ সদস্যের খাদ্য মনিটরিং কমিটি খাবারের মান ও বণ্টন তদারকি করছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘সুশীলন’।

কেশবপুরের মজিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুদেব কুমার দেবনাথ বলেন, “স্কুল ফিডিং চালুর পর উপস্থিতি ও মনোযোগ দুটোই বেড়েছে। তবে শতভাগ বরাদ্দ না থাকায় অনেক সময় খাবার ভাগ করে দিতে হয়, যা বিব্রতকর।”

অভয়নগরের অভিভাবক নাসিমা বেগম ও জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. শাহীনুর রহমান জানান, এ কর্মসূচির ফলে বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া বন্ধ হয়েছে এবং সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুদের ভর্তির আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ঝিকরগাছার নাগরিক প্রতিনিধি মো. নাজমূল আলমসহ স্থানীয়রা মনে করেন, নতুন প্রজন্মের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার স্বার্থে এ কর্মসূচি শুধু চালু রাখাই নয়, উপস্থিতি শতভাগে উন্নীত করে বরাদ্দ বাড়ানো এবং সারা দেশে তা সম্প্রসারণ করা জরুরি।

বাস্তবায়নকারী সংস্থা সুশীলনের উপ-পরিচালক শাহিনা পারভীন জানান, দুর্যোগ মোকাবিলা করেও প্রত্যন্ত এলাকায় টিফিন পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং শতভাগ বরাদ্দের বিষয়টি তাঁরাও সরকারকে অবহিত করেছেন।

কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, এটি একটি পাইলট প্রকল্প হওয়ায় উপস্থিতির তারতম্য অনুযায়ী পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে প্রকল্পটি আরও ফলপ্রসূ ও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

‎স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে শতভাগ শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্তির দাবি

বিস্তারিত কমেন্টে