রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি এম আহসান হাবীবের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এই নেতার বিরুদ্ধে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের খবর নতুন নয়। এর আগেও শিক্ষার্থী নির্যাতন ও চাঁদাবাজির মতো নানা গুরুতর অভিযোগে খবরের শিরোনাম হয়েছেন তিনি।
সর্বশেষ রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে অন্তত চারজন সাংবাদিকসহ মোট ১০ জন আহত হন। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে দ্য ডেইলি স্টার, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, সমকাল ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য ও একাধিক ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, আহসান হাবীবের নেতৃত্বে ছাত্রদলের একদল নেতা-কর্মী দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে এক ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আহসান হাবীবকে রাবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। পরে ২০২৫ সালের জুনে ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) এক শিক্ষার্থীকে মারধর, অর্থ ছিনতাই এবং জোরপূর্বক ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত করার চেষ্টার লিখিত অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
নানা অভিযোগের পরও ২০২৬ সালে রাবি ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে তাঁর অব্যাহতি প্রত্যাহার করে তাঁকে শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি করা হয়। পদ ফিরে পাওয়ার পরপরই পুনরায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়ে আলোচনায় এলেন তিনি।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীব নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘কোনো নিরপেক্ষ সাংবাদিকের ওপর হামলা করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে কটূক্তিকারী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও জিয়া হলের জিএস আরিফুলকে ধরতে গেলে যেসব সাংবাদিক নামধারী ব্যক্তি আমাদের ওপর হামলা করতে এসেছে, তাদের প্রতিহত করা হয়েছে মাত্র।’
kalprakash.com/IM