ভারতে বিউটি পার্লারে ভালো কাজের প্রলোভনে পড়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের পর বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরেছেন তিন বাংলাদেশি তরুণী। ভারত সরকারের বিশেষ ‘ট্রাভেল পারমিটে’র মাধ্যমে তাঁদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ভারতের পেট্রাপোল (হরিদাসপুর) চেকপোস্ট দিয়ে বিএসএফ ও ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁদের বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) কাছে দুই দফায় হস্তান্তর করে।
ফেরত আসা তরুণীরা হলেন—সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার রিয়া খাতুন (২৫), নড়াইলের পিরোলী গ্রামের শিল্পি খাতুন একা (২৬) এবং পাবনার গারুরি গ্রামের শিমলা খাতুন (২৬)।
বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, বিউটি পার্লারে আকর্ষণীয় চাকরির লোভে পড়ে এরা মানবপাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়েন এবং কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যান। ভারতে পৌঁছানোর পর রিয়া খাতুন মুম্বাইয়ে এবং শিল্পি ও শিমলা মহারাষ্ট্রের পুনেতে পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার হন। বিচারে রিয়া খাতুন এক বছর এক মাস এবং বাকি দুজন আট মাস ধরে ভারতের কারাগারে সাজা ভোগ করেন।
পরবর্তীতে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনি যোগাযোগ ও সমঝোতার মাধ্যমে বিশেষ ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে তাঁদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

ফেরত আসা তরুণীদের আইনি ও মানবিক সহায়তার পাশাপাশি পরিবারের কাছে নিরাপদ হস্তান্তরের জন্য ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’ নামের একটি বেসরকারী মানবাধিকার সংস্থার জিম্মায় তুলে দেওয়া হয়েছে।
যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের এরিয়া কোঅর্ডিনেটর মুহিত চৌধুরী জানান, ফেরত আসা তরুণীদের প্রথমে সংস্থার যশোরস্থ শেল্টার হোমে রাখা হবে এবং প্রয়োজনীয় কাউন্সিলিং শেষে তাঁদের নিজ নিজ স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
kalprakash.com/IM