বাগেরহাট জেলা শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পিত্তথলির পাথর অপসারণের অস্ত্রোপচার (অপারেশন) চলাকালে নাছিমা আক্তার (২০) নামের এক গৃহবধূর করুণ মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে অস্ত্রোপচার শুরু হওয়ার পর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে এবং মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোরে স্বজনদের কাছে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছায়।
নিহত নাছিমা আক্তার বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বারদাড়িয়া গ্রামের সুমন সরদারের স্ত্রী।
নিহতের পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পিত্তথলিতে পাথরজনিত সমস্যায় চিকিৎসার জন্য নাছিমাকে বাগেরহাট পৌরসভার পুরাতন বাজারসংলগ্ন ‘পলি ক্লিনিকে’ ভর্তি করা হয়। সোমবার রাত ১১টার দিকে ক্লিনিকের পরিচালক ডা. সুনীল কুমারের তত্ত্বাবধানে তাঁকে অস্ত্রোপচার কক্ষে (ওটি) নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচার চলাকালেই নাছিমার অবস্থার দ্রুত অবনতি হলেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স্বজনদের কাছে গোপন রাখে। পরবর্তীতে ভোর ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।
নিহতের স্বামী সুমন সরদারের স্পষ্ট অভিযোগ, চিকিৎসকের চরম অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই তাঁর স্ত্রীর অকালমৃত্যু হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে ঘটনার পর স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে অর্থ দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নিহতের আরেক স্বজন অভিযোগ করেন, ওটি থেকে নাছিমার চিৎকারের শব্দ ভেসে আসলেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তা সাধারণ বিষয় বলে স্বজনদের ভুল বুঝায়। এ ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ক্লিনিকটির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তদন্তের দাবি তুলেছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে পলি ক্লিনিকের পরিচালক ডা. সুনীল কুমার দাবি করেন, “প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করেই অস্ত্রোপচার শুরু করা হয়েছিল। অপারেশন চলাকালে হঠাৎ হৃদস্পন্দন আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গিয়ে (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) রোগীর মৃত্যু হয়। এখানে চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা করা হয়নি।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্লিনিকে স্বজন ও স্থানীয়দের উত্তেজনার সৃষ্টি হলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বাগেরহাট সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন জানান, নিহত গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
kalprakash.com/IM