যারা ইসরায়েলকে তাদের ‘পিতৃভূমি’ মনে করে, তাদের সঙ্গেই রাজনৈতিক আঁতাত ও আপস করতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক ছাত্র-জনতার সংহতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর জামায়াত নেতাদের দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তাদের শীর্ষ নেতা বললেন আওয়ামী লীগের সবাইকে নাকি তারা ক্ষমা করে দেবেন। তাহলে ছাত্র-জনতার রক্তে অর্জিত বিপ্লবে শহিদ মুগ্ধের মহান আত্মদান কি বৃথা? ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদ যেভাবে বুকে বুলেট বরণ করে রক্ত ঝরালেন, সেই আত্মত্যাগ কি অকার্যকর? আপনারা জুলাইয়ের শহিদদের রক্তকে তোয়াক্কা না করে স্বৈরাচারদের ক্ষমা করার ঘোষণা দিচ্ছেন এবং পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের বার্তা দিচ্ছেন।”
জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থানের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা আরও বলেন, “জামায়াতপ্রধানের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত ৭১ থেকে জুলাই অভ্যুত্থান পর্যন্ত ইতিহাস বিষয়ক ছবি প্রদর্শনীতে মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক ও এ দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি স্থান পায়নি। এর মাধ্যমেই উন্মোচিত হয় যে, তাদের রাজনৈতিক চেতনার গভীরে আসলে কোন ষড়যন্ত্র ও ইতিহাস বিকৃতির নীল নকশা লিপিবদ্ধ রয়েছে।”
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রগতির ধারাবাহিকতা বর্ণনা করে রিজভী বলেন, “১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শিক পথ ধরেই ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থান ত্বরান্বিত হয়েছে। বাংলাদেশের আপামর মানুষের ধমনীতে সেই বীরত্বগাথা ইতিহাস প্রবহমান—যার শক্তিতে লুঙ্গি পরা সাধারণ মানুষও হাতে রাইফেল তুলে নিতে পারে, জীবন বাজি রেখে নদীতে সাঁতরে শত্রুশিবিরে আক্রমণ চালাতে পারে। এই গর্বিত উত্তরাধিকারই হচ্ছে আমাদের বর্তমান প্রজন্ম।”
সমাবেশে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
kalprakash.com/IM