দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার ফাঁকে একটু বিনোদন কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে স্রেফ কয়েক মিনিট রিলস বা শর্ট ভিডিও দেখার অভ্যাস এখন ঘরে ঘরে। তবে একটি ভিডিও শেষ হতে না হতেই অ্যালগরিদমের ফাঁদে পড়ে একের পর এক ভিডিও দেখতে দেখতে কখন যে ঘণ্টা পার হয়ে যায়, তা অনেক সময় ব্যবহারকারীরা টের পান না। অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত মাত্রায় শর্ট ভিডিও দেখার এই প্রবণতা আপনার অজান্তেই কেড়ে নিচ্ছে মানসিক সুখ ও শান্তি।
‘সায়েন্সডাইরেক্ট’ সাময়িকীতে প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি বৈশ্বিক মেটা-অ্যানালাইসিস পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সমস্যাজনক মাত্রায় শর্ট-ফর্ম ভিডিও দেখার সঙ্গে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্নতা, ঘুমের ব্যাঘাত ও দীর্ঘমেয়াদি একাকিত্বের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
কেন রিলসের অ্যালগরিদম আমাদের আটকে রাখে? রিলস বা টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর স্বয়ংক্রিয় ‘অটো-প্লে’ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত নিখুঁত সাজেশন। ব্যবহারকারীর নিজস্ব পছন্দ ও মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণ করে অ্যালগরিদম একের পর এক আকর্ষণীয় ভিডিও স্ক্রিনে এনে হাজির করে। ফলে মস্তিষ্ক থেকে ক্ষণে ক্ষণে ডোপামিন হরমোন নিঃসৃত হতে থাকে এবং মানুষ বিনোদনের পেছনে ছুটতে গিয়ে সময়ের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।
বাস্তবতা থেকে পালানোর সাময়িক আশ্রয়: মন খারাপ, হতাশা কিংবা মানসিক চাপের সময় তাৎক্ষণিক স্বস্তি পেতে অনেকেই রিলস দেখা শুরু করেন। গবেষণায় উঠে এসেছে, বাস্তবতার জটিলতা থেকে ক্ষণিক সময়ের জন্য ‘পলায়নপর মনস্তত্ত্ব’ (Escapism) পূরণে এটি সাময়িক সমাধান দিলেও ধীরে ধীরে তা মানসিক নির্ভরতায় পরিণত হয়। পরবর্তীতে তা অতিরিক্ত বিষণ্নতা ও একাকিত্বকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
যে লক্ষণগুলো দেখলে অবিলম্বে সতর্ক হবেন:
-
সময়ের হিসাব হারিয়ে ফেলা: কয়েক মিনিটের উদ্দেশ্যে ফোন হাতে নিয়ে ঘণ্টা পার করা।
-
ঘুমে বিঘ্ন ঘটানো: ‘আর একটা ভিডিও দেখেই ঘুমাব’—বলতে বলতে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা।
-
কাজে ব্যাঘাত: রিলস দেখার প্রবণতায় জরুরি কাজ, পড়াশোনা বা পেশাগত দায়িত্ব পিছিয়ে পড়া।
-
মানসিক নির্ভরতা: মন খারাপ বা মানসিক চাপ সামলাতে বিকল্প উপায়ের বদলে কেবল রিলসের ওপর নির্ভর করা।
-
ফোন ছাড়া অস্থিরতা: ফোন হাতের কাছে না থাকলে বা ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে দ্রুত বিরক্ত ও অস্থির বোধ করা।
-
বাস্তব জীবনে দূরত্ব: পরিবার, বন্ধুবান্ধব বা সামাজিক যোগাযোগের চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার স্ক্রিনে বেশি সময় ব্যয় করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রিলস দেখা পুরোপুরি ক্ষতিকর না হলেও এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার জীবনযাত্রার মান ও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে বা ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ পালনের মাধ্যমে স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণে আনার পরামর্শ দিয়েছেন মনোবিজ্ঞানীরা।
kalprakash.com/IM