শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬ | ২৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ২৩ সফর, ১৪৪৮ | বিকাল ৫:৫৬:৫২

১/১১-তে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে জেআইসি সেলে রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৬
শেয়ার: mail
১/১১-তে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে জেআইসি সেলে রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

২০০৭ সালের এক-এগারোর (১/১১) সামরিক নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ডিজিএফআইয়ের ‘জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল’ বা জেআইসিতে বন্দি রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “শুধু বর্তমান প্রধানমন্ত্রীই নন, সাবেক সেনাকর্তা ব্রিগেডিয়ার আজমীসহ অসংখ্য রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে এই জেআইসিতে দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়েছিল। দিনের পর দিন তাঁদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে আমাদের কাছে আসা একাধিক সাক্ষীর রোমহর্ষক বিবরণ ও জবানবন্দিতে এসব ভয়াবহ নির্যাতনের চিত্র উঠে এসেছে। বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর পর আদালতের শুনানিতে এসব তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে প্রতিফলিত হবে।”

আজ শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে ডিজিএফআই সদর দপ্তরে অবস্থিত বিতর্কিত এই জেআইসি সেল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ৩ জন বিচারপতি এবং প্রসিকিউশন টিমের বিশেষ একটি প্রতিনিধি দল। পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা বলার সময় এসব বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, “জেআইসি নামের এই কেন্দ্রটি মূলত নাগরিকদের ধরে এনে গুম, নির্যাতন ও বন্দি রাখার প্রধান আখড়া হয়ে উঠেছিল, যা পরবর্তীকালে দেশ-বিদেশে কুখ্যাত ‘আয়নাঘর’ হিসেবে পরিচিতি পায়। সেখানে কীভাবে আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে অমানবিক পরিবেশের মধ্যে বন্দিদের দিনের পর দিন, মাসের পর মাস এবং বছরের পর বছর গুম করে রাখা হয়েছিল— তা আজ পরিদর্শনের মাধ্যমে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতের মুক্ত বাংলাদেশে যেন আর কোনো গোপন বন্দিশালা, টিএফআই সেল, জেআইসি বা তথাকথিত ‘আয়নাঘর’ গড়ে উঠতে না পারে, তা বিচারিক আদেশের মাধ্যমে শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্র ও সংবিধানের বিধান অনুযায়ী কোনো নাগরিক অপরাধ করলে তাঁকে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় গ্রেফতার করে আদালতের মুখোমুখি করতে হবে।”

আমিনুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কোনো স্বাধীন নাগরিক যেন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা গুমের শিকার না হন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে অহেতুক হয়রানি ও গোপন নির্যাতন কেন্দ্রে রেখে বন্দি নির্যাতনের মতো অন্ধকার অধ্যায়ের ইতি টানতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward