বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা ও উৎসবমুখর পরিবেশে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ পালিত হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বর্ণাঢ্য কর্মসূচি শেষে বৈষম্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও তরুণদের বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগের ওপর গুরুত্বারোপ করে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশের আপামর ছাত্র-জনতা যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছিল, তার মূল ও পুরো কৃতিত্ব আমাদের উদীয়মান তারুণ্যের। এই সাহসী তরুণদের কারণেই আজ বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে।”
ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে বেরোবি শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদের মহিমান্বিত ভূমিকা স্মরণ করে উপাচার্য আরও বলেন, “বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে জুলাই আন্দোলনের অগ্রসৈনিক শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ বিশ্ব ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। বীর শহীদ আবু সাঈদের এই মহান আত্মত্যাগই ছিল আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি, যা চিরকাল অন্যায়ের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মকে সংগ্রামের পথ দেখাবে। আমরা প্রত্যয় ব্যক্ত করি—এ দেশে যেন আর কোনো দিন স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান না ঘটে।”
দিবসটি উদযাপনে সকাল থেকেই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেট থেকে উপাচার্যের নেতৃত্বে এক আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে পার্কের মোড়, ঐতিহাসিক ‘শহীদ আবু সাঈদ চত্বর’ ও মডার্ন মোড় প্রদক্ষিণ করে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা, রোড ম্যাগাজিনের বিশেষ সংখ্যা প্রকাশনা এবং বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় স্মারক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দিনটি উদযাপনে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়।
kalprakash.com/IM