শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার যোগানিয়া ইউনিয়ন বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবার চরম আকারে প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত চাঁদাবাজি ও অনিয়মের নানা অভিযোগের জবাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করায় বিষযটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে স্থানীয় প্রেসক্লাব কার্যালয়ে যোগানিয়া ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক এবং সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন তাঁদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
লিখিত বক্তব্যে তাঁরা দাবি করেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নিজেদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়িয়ে সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। উত্থাপিত বিষয়গুলোকে তাঁরা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমার রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান দুর্বল করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আমি সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দল ও নেতাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই সফল হবে না। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে শক্ত ঐক্য বজায় রেখে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।”
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২ আগস্ট যোগানিয়া ইউনিয়ন বিএনপির ব্যানারে আয়োজিত পৃথক সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বাদশা মিয়া সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেনের বিরুদ্ধে চরম স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্নীতি, সরকারি প্রণোদনা আত্মসাৎ, সেবা প্রদানে ঘুষ গ্রহণ এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তাঁদের দল থেকে অপসারণের দাবি জানান।
ওই সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত দুই নেতার পরিবারের স্বজনদের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। পাল্টাপাল্টি এই সংবাদ সম্মেলনের পর অঞ্চলটিতে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
kalprakash.com/IM