ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে ওঠা গুরুতর অভিযোগের জেরে চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক শেখ রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে দলটি। নৈতিক স্খলনের ভয়াবহ অভিযোগ ওঠার পর তাঁর সব সাংগঠনিক পদ স্থগিত করেছে এনসিপি চাঁদপুর জেলা শাখা। একই সঙ্গে অভিযোগটি তদন্ত করে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে দলটি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শাহরাস্তি পৌর আহ্বায়ক শেখ রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ ওঠায় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে তাঁর সব সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে। জেলা আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম ও সদস্য সচিব আমন উল্লাহ পাটোয়ারীর নির্দেশক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্প্রতি এক প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে শেখ রহমত উল্লাহ চলে গেছেন—এমন অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় শাহরাস্তি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই নারীর শ্বশুর হারুনুর রশিদ। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে রহমত উল্লাহ বাড়ি থেকে চলে যান। এরপর থেকে তাঁদের দুজনের মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, রহমত উল্লাহ ও ওই নারীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার বিষয়টি তাঁরা জানতেন। বিষয়টি পারিবারিকভাবে জানাজানি হওয়ার পর শনিবার রাতে তাঁরা দুজন একসঙ্গে চলে যান। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাঁদের সন্ধান শুরু করেন।
রোববার সকালে রহমত উল্লাহর স্ত্রী এবং ওই প্রবাসীর দুই শিশু কন্যা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শাহরাস্তি থানায় উপস্থিত হন।
প্রবাসীর ভগ্নিপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক থাকার বিষয়টি পরিবারের নজরে এসেছিল। পরে বিষয়টি পারিবারিকভাবে জানাজানি হলে শনিবার রাতে তাঁরা দুজন চলে যান।
অভিযোগকারী হারুনুর রশিদ দাবি করেছেন, তাঁর পুত্রবধূ বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ সঙ্গে নিয়ে গেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।
শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে শেখ রহমত উল্লাহর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ও সাংগঠনিক পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
kalprakash.com/IM