দেশব্যাপী সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, কারাবন্দিত্ব ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পর্যবেক্ষণ, নথিভুক্তকরণ এবং ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের আইনি ও মানবিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল, বাংলাদেশ-এর নওগাঁ জেলা ইউনিট প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম।
তিনি বর্তমানে মোহনা টেলিভিশনের নওগাঁ প্রতিনিধি (অনলাইন), বার্তা২৪.কম-এর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বাংলা এডিশনের রাজশাহী বিভাগীয় প্রধান এবং জাতীয় দৈনিক এদিন পত্রিকায় কর্মরত রয়েছেন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বাধীনতার পর গত ৫৭ বছরে দেশে সংঘটিত ৪৩ জন পেশাদার সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডসহ আহত ও নির্যাতিত সাংবাদিকদের একটি প্রাথমিক তালিকা দীর্ঘ ছয় মাস ধরে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং বিভিন্ন উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংগঠনের সেলের প্রধান সাংবাদিক মোহাম্মদ আলী আবির।
সংগঠনটি আগামীকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সারাদেশে কার্যক্রম শুরু করবে। সেলের প্রধান মোহাম্মদ আলী আবিরের নেতৃত্বে দেশের প্রতিটি জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মাঠপর্যায়ে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ, আইনি সহায়তা প্রদান, মামলা-সংক্রান্ত সহযোগিতা এবং ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এদিকে সংগঠনের চেয়ারম্যান অনুসন্ধানী সাংবাদিক মো. খায়রুল আলম রফিকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গত কয়েক মাস ধরে এ কার্যক্রমের সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও কৌশলগত পরিকল্পনার কাজ চলমান রয়েছে।
নওগাঁ জেলা ইউনিট প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর শহিদুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের ওপর যেকোনো ধরনের নির্যাতন, হয়রানি ও হামলার বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানোই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। নওগাঁ জেলার সাংবাদিকদের অধিকার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব।
সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল, বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম পূর্বশর্ত। দেশের প্রতিটি জেলায় দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনা পর্যবেক্ষণ, নথিভুক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও মানবিক সহায়তা প্রদানে কাজ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, নওগাঁ জেলা ইউনিট প্রধান হিসেবে শহিদুল ইসলামকে তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতা, দায়িত্ববোধ এবং সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাধীন ও মুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।