শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬ | ৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৮ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | সন্ধ্যা ৭:৪৫:৫১

প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগমের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৫
শেয়ার: mail
প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগমের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ের ফ্রিড মাতৃছায়া অটিস্টিক শিশু নিকেতন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরা)-এর বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, অর্থ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক। জেলা প্রশাসনের দাবি, ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যবস্থা নিতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম দ্রুত গ্রহণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) শাখায় জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এ প্রতিবন্ধী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সম্প্রতি ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্তদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ, সময়মতো হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে না দেওয়া, প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি বরাদ্দে পাওয়া কয়েকটি ল্যাপটপ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার, সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ এবং স্বেচ্ছাচারিতাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগম ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মানছেন না। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনাও উপেক্ষা করে নিজের ইচ্ছামতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, একের পর এক অভিযোগ জমা পড়লেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগকারী কয়েকজন শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগম মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী। তারা দাবি করেন, সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পরও আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্কুলে কেক কাটার অভিযোগে সদর থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। তাদের আরও অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক তার ভাই, ভাবিসহ পরিবারের নয়জন সদস্যকে প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিয়েছেন। অনিয়মের প্রতিবাদ করায় অন্য শিক্ষকদের বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এমনকি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

তারা আরও বলেন, বাধ্য হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো প্রধান শিক্ষক বহাল রয়েছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরা) সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মন্ত্রণালয় ১৭ জনকে নিয়োগ দিয়ে ঠিক করেনি। আর জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা যদি পারেন, আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি কোনো নির্দেশনায় কর্ণপাত করছেন না। ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থা নিতে সময় লাগছে। প্রধান শিক্ষককে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ | Globe kalprakash.com

প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগমের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ

বিস্তারিত কমেন্টে