বাংলাদেশ ১১:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo দেবিদ্বারে বিএনপির নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল, শহীদদের স্মরণে দোয়া Logo হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজে ভারতীয় নাবিক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা Logo জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুত ৯০ দিনে উন্নীত করতে সরকারের পরিকল্পনা Logo দুই বছরে স্বর্ণের দামে বড় উত্থান, ৯১ বার সমন্বয়ের পর এখন কোন পর্যায়ে বাজার? Logo চেক ডিজঅনার মামলায় জামিন পেলেন সালমান এফ রহমান Logo নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ধাপ চূড়ান্ত নয়, সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা Logo নবম জাতীয় পে স্কেলে ইনক্রিমেন্টে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব, নিম্ন গ্রেডে বাড়তে পারে সুবিধা Logo ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা, উৎসবে মেতেছে বুয়েন্স আয়ার্স ও রোজারিও Logo গ্রিন কার্ডে নতুন শর্ত বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসন, লাগতে পারে জামানত Logo লিওনেল মেসির পুরো নাম কী? জানুন নামের শেষ অংশের ইতিহাস

ঘর নির্মাণ না করেই টাকা উত্তোলনের অভিযোগ কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পের আওতায় দুটি ঘর নির্মাণের কথা থাকলেও তা না করে গোপনে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহাবুদ্দীন আহমেদের বিরুদ্ধে।

মাশরুম চাষ সম্প্রসারণ প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ের স্মারক নং-১২.০১.০০০০.৯১৫.৩৬.০০১.২৫.১৩৪৫ নম্বর অর্থছাড়ের বরাদ্দপত্র সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (বিনিয়োগ) আওতায় মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পের প্রশিক্ষণ খাতে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিধি মোতাবেক ব্যয়ের জন্য মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অনুকূলে দুটি ঘর নির্মাণে প্রায় ৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

তবে ১৪ থেকে ১৬ জুলাই খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে ওই ঘরের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা উসিংহলা মারমা বলেন, আমার নামে মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পের আওতায় একটি ঘর নির্মাণের কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ঘর নির্মাণের কোনো খবর পাইনি। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফোন করে জানান, আজ আমার বাড়িতে ঘর নির্মাণের সরঞ্জাম আসবে। কিন্তু দুপুর ১২টা ৫ মিনিট পর্যন্ত কোনো সরঞ্জাম আসেনি।

এদিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ছাড়াই অফিস পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া অফিস সহকারী ইসমাইল হোসেন প্রায় আড়াই বছর ধরে অফিসেই রাত্রিযাপন ও বসবাস করছেন।

অফিস সহকারী ইসমাইল হোসেন বলেন, এটি আমার অফিস, আবার আমার বাসাও। কাজের সুবিধা, কর্তৃপক্ষের সুবিধার্থে এবং অসুস্থতার কারণে আমি অফিসেই থাকি।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহাবুদ্দীন আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি কখনো বলেন, বিষয়টি অফিস সহকারী ইসমাইল হোসেন জানেন। আবার কখনো বলেন, এ বিষয়ে তথ্য দিতে খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসির উদ্দীন চৌধুরীর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কৃষি অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করা এবং অফিস সহকারী ইসমাইল হোসেনের অফিসে বসবাসের বিষয়ে তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হলে কৃষি অফিসে আলাদাভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের প্রয়োজন হয় না। আর ইসমাইল হোসেনকে নৈশ প্রহরীর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসির উদ্দীন চৌধুরী বলেন, সময় না থাকা এবং জুন ক্লোজিংয়ের কারণে কৃষি কর্মকর্তা টাকা উত্তোলন করেছেন। শিগগিরই কাজ শুরু হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নৈশ প্রহরী ছাড়া অন্য কারও অফিসে থাকার সুযোগ নেই।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু বলেন, কৃষি অফিস উপজেলা পরিষদের বাইরে হওয়ায় সেখানে আলাদাভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে। প্রকল্পের কাজ না করে অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি খতিয়ে দেখে জানানো হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. আখতার জাহান কাঁকন বলেন, কাজ না করে বিল উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। কেন কাজ না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে, বিষয়টি বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

kalprakash.com/IM

জনপ্রিয় সংবাদ

দেবিদ্বারে বিএনপির নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল, শহীদদের স্মরণে দোয়া

ঘর নির্মাণ না করেই টাকা উত্তোলনের অভিযোগ কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

প্রকাশিত: ০৪:৪০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পের আওতায় দুটি ঘর নির্মাণের কথা থাকলেও তা না করে গোপনে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহাবুদ্দীন আহমেদের বিরুদ্ধে।

মাশরুম চাষ সম্প্রসারণ প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ের স্মারক নং-১২.০১.০০০০.৯১৫.৩৬.০০১.২৫.১৩৪৫ নম্বর অর্থছাড়ের বরাদ্দপত্র সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (বিনিয়োগ) আওতায় মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পের প্রশিক্ষণ খাতে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিধি মোতাবেক ব্যয়ের জন্য মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অনুকূলে দুটি ঘর নির্মাণে প্রায় ৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

তবে ১৪ থেকে ১৬ জুলাই খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে ওই ঘরের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা উসিংহলা মারমা বলেন, আমার নামে মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পের আওতায় একটি ঘর নির্মাণের কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ঘর নির্মাণের কোনো খবর পাইনি। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফোন করে জানান, আজ আমার বাড়িতে ঘর নির্মাণের সরঞ্জাম আসবে। কিন্তু দুপুর ১২টা ৫ মিনিট পর্যন্ত কোনো সরঞ্জাম আসেনি।

এদিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ছাড়াই অফিস পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া অফিস সহকারী ইসমাইল হোসেন প্রায় আড়াই বছর ধরে অফিসেই রাত্রিযাপন ও বসবাস করছেন।

অফিস সহকারী ইসমাইল হোসেন বলেন, এটি আমার অফিস, আবার আমার বাসাও। কাজের সুবিধা, কর্তৃপক্ষের সুবিধার্থে এবং অসুস্থতার কারণে আমি অফিসেই থাকি।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহাবুদ্দীন আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি কখনো বলেন, বিষয়টি অফিস সহকারী ইসমাইল হোসেন জানেন। আবার কখনো বলেন, এ বিষয়ে তথ্য দিতে খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসির উদ্দীন চৌধুরীর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কৃষি অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করা এবং অফিস সহকারী ইসমাইল হোসেনের অফিসে বসবাসের বিষয়ে তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হলে কৃষি অফিসে আলাদাভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের প্রয়োজন হয় না। আর ইসমাইল হোসেনকে নৈশ প্রহরীর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসির উদ্দীন চৌধুরী বলেন, সময় না থাকা এবং জুন ক্লোজিংয়ের কারণে কৃষি কর্মকর্তা টাকা উত্তোলন করেছেন। শিগগিরই কাজ শুরু হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নৈশ প্রহরী ছাড়া অন্য কারও অফিসে থাকার সুযোগ নেই।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু বলেন, কৃষি অফিস উপজেলা পরিষদের বাইরে হওয়ায় সেখানে আলাদাভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে। প্রকল্পের কাজ না করে অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি খতিয়ে দেখে জানানো হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. আখতার জাহান কাঁকন বলেন, কাজ না করে বিল উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। কেন কাজ না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে, বিষয়টি বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

kalprakash.com/IM