রাঙামাটিতে গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবাহ কিছুটা কমলেও জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। এখনও জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় দিনে জেলায় মোট ১০৪টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। বন্যাকবলিত মানুষের আশ্রয়ের জন্য খোলা হয়েছে ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ৩ হাজার ৫২৪ জন মানুষ অবস্থান করছেন।
এদিকে টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির কাপ্তাই লেক পানিতে টইটম্বুর হয়ে উঠেছে। লেকজুড়ে এখন শুধু পানি। পানির উচ্চতা বাড়ায় পানিনির্ভর কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট একযোগে চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র (কপাবিকে) সূত্রে জানা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে গত জুন মাস পর্যন্ত সাধারণত এক থেকে দুটি ইউনিট চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হলেও চলতি মাসের ৭ জুলাই মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট একসঙ্গে চালু করা হয়। ওই দিন পাঁচটি ইউনিট থেকে ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, টানা বৃষ্টির কারণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গত সাত দিন ধরে কাপ্তাই লেকে পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পাঁচটি ইউনিট থেকে মোট ১৭৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে ১ ও ২ নম্বর ইউনিট থেকে প্রতিটিতে ৪২ মেগাওয়াট করে মোট ৮৪ মেগাওয়াট, ৩ নম্বর ইউনিট থেকে ৩৫ মেগাওয়াট এবং ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট থেকে প্রতিটিতে ৩০ মেগাওয়াট করে মোট ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৪০ মেগাওয়াট।
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই লেকে পানির উচ্চতা ছিল ৯০ দশমিক ৩১ ফুট মিন সি লেভেল। অথচ রুলকার্ভ অনুযায়ী এ সময়ে লেকে পানির উচ্চতা থাকার কথা ছিল ৮৫ দশমিক ৪৪ ফুট মিন সি লেভেল।
উল্লেখ্য, কাপ্তাই লেকের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৮ ফুট মিন সি লেভেল। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় একদিকে যেমন বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনও বেড়েছে।
kalprakash.com/IM
নাজিম আলী, রাঙামাটি প্রতিনিধি 





















