জেরেমি করবিনের বক্তব্য ও দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত তাঁর লেখাকে কেন্দ্র করে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে মানবাধিকার, রাজনীতি ও নৈতিকতার প্রশ্নকে সামনে এনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
করবিন এই বিশ্বকাপকে ‘ট্রাম্পীয় বিশ্বকাপ’ এবং ‘বর্ণবাদ ও নৈরাশ্যের উৎসব’ হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, যারা কাতার বিশ্বকাপ ২০২২-এ মানবাধিকার ইস্যুতে সোচ্চার ছিলেন, তারা এখন যুক্তরাষ্ট্র-কেন্দ্রিক বিশ্বকাপ ২০২৬ নিয়ে নীরব—যা এক ধরনের দ্বৈত মানদণ্ড।
তিনি আরও দাবি করেন, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও অভিবাসন নীতির কারণে বিভিন্ন দেশের সমর্থক, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা অংশগ্রহণে বাধার মুখে পড়ছেন। বিশেষ করে সোমালি রেফারি ওমর আরতানের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে তিনি বর্ণবাদের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
করবিনের মতে, এই বিশ্বকাপ শুধু ক্রীড়া আয়োজন নয়, বরং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, অভিবাসন নীতি এবং নিরাপত্তা কাঠামোর কারণে বিভাজনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের উদ্বেগও তুলে ধরেন, যেখানে বলা হয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন ব্যবস্থা, গণ-আটক নীতি এবং নজরদারি ব্যবস্থা টুর্নামেন্টকে মানবাধিকার সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পশ্চিমা দেশগুলোর সরকার মানবাধিকার প্রশ্নে সুবিধাজনক সময়ে সরব হলেও রাজনৈতিক স্বার্থে অনেক সময় নীরব থাকে। তাঁর মতে, এই নীরবতাই বৈশ্বিক নীতিতে ভণ্ডামির জন্ম দিচ্ছে।
সবশেষে করবিন বলেন, ফুটবল কেবল একটি খেলা হলেও মানুষের জীবন ও অধিকার তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরগুলোতে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের আরও শক্ত অবস্থান নেওয়া জরুরি।
kalprakash.com/SAS
অনলাইন ডেস্ক 























