সুন্দরবনের নদী-খালে আবারও ফিরে এসেছে বনদস্যুদের ভয়াল ছায়া। গভীর রাতে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ট্রলারসহ ১২ জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী। রাতের অন্ধকারে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা।
মঙ্গলবার গভীর রাতে শরণখোলা রেঞ্জের দুবলারচর এলাকার নদীতে মাছ ধরছিলেন কয়েকজন জেলে। এমন সময় হঠাৎ করেই ভারী অস্ত্রে সজ্জিত একদল বনদস্যু তাদের ট্রলার ঘিরে ফেলে। পরে জেলেদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি ট্রলারসহ তুলে নিয়ে যায়।
অপহৃতদের মধ্যে রয়েছেন পাথরঘাটার রুহিতা এলাকার ইয়াসিন, মাসুম, সেলিম, জাকির, হোসেন, তৌহিদ, মাহবুব, হানিফ, হৃদয়, ইব্রাহিম, সুমনসহ আরও একজন জেলে।
স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, দস্যুরা সংখ্যায় ১৫ থেকে ১৬ জন ছিল এবং তাদের সবার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তারা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, অপহৃতদের মুক্তিপণ আদায়ের জন্য গভীর বনের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর উপকূলীয় এলাকায় চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেক জেলে নিরাপত্তাহীনতার কারণে সুন্দরবনে যেতে ভয় পাচ্ছেন। কয়েকজন জেলের স্বজন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষদের ধরে নিয়ে গেছে। আমরা তাদের জীবিত ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় আছি।”
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে বনরক্ষীরা অভিযান শুরু করেছে। তবে দস্যুরা বনাঞ্চলের দুর্গম এলাকায় অবস্থান নেওয়ায় উদ্ধার অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে।
শরণখোলা থানার ওসি মো. শামীমুল হক জানান, বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সুন্দরবনে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য রোধে যৌথ বাহিনীর স্থায়ী অভিযান এবং জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট প্রতিনিধি 






















