প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রথম সমাবর্তনের আয়োজন করতে পারেনি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)। কয়েক দফা তারিখ নির্ধারণ ও পরিবর্তনের পর শেষ পর্যন্ত স্থগিত হয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুল প্রতীক্ষিত প্রথম সমাবর্তন। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। ফলে সমাবর্তন নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা।
২০০৮ সালে রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় নামে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। পরে নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার নামে এর নামকরণ করা হয়। দীর্ঘ ১৮ বছরেও প্রথম সমাবর্তন না হওয়ায় সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় যখন নতুন করে সমাবর্তনের আয়োজন করছে, তখন বেরোবির ক্ষেত্রে বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৭ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে সমাবর্তন আয়োজনের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বেরোবির প্রথম সমাবর্তন গত বছরের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে একই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা থাকায় তারিখ পরিবর্তন করে ২০২৬ সালের জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে সমাবর্তনের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সমাবর্তন কমিটি সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম থেকে দ্বাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এ সমাবর্তনে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছিল। নিবন্ধনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় ২১ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ে সমাবর্তনে অংশ নিতে নিবন্ধন করেন মাত্র ১৬৭ জন শিক্ষার্থী।
এরই মধ্যে ৭ ডিসেম্বর সমাবর্তন কমিটির এক সভায় অনুষ্ঠান স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরদিন ৮ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমাবর্তনের নিবন্ধনের সময়সীমা বৃদ্ধি, ফি কমানোসহ বেরোবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন দাবি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতিকেও অনুষ্ঠান স্থগিতের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সমাবর্তন স্থগিতের পর নিবন্ধন করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকে জমা দেওয়া অর্থ ফেরত চেয়ে আবেদন করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনলাইন চার্জসহ তাঁদের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৪ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. জাহিদ হোসেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী জাকির হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর একজন শিক্ষার্থীর সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তগুলোর একটি হলো সমাবর্তন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা প্রথম সমাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন। কয়েকবার তারিখ নির্ধারণের পরও অনুষ্ঠান না হওয়ায় তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত সমাবর্তন হলেও তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো প্রথম সমাবর্তন না হওয়া হতাশাজনক। প্রশাসনের কাছে তাঁদের প্রত্যাশা, তারিখ নির্ধারণ ও স্থগিতের মধ্যেই যেন আয়োজনটি আটকে না থাকে।
বেরোবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক এস এম শাহেদুল আলম সাগর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৮ বছরেও সমাবর্তন না হওয়া হতাশাজনক। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে নিবন্ধন ফি সহনীয় রাখা এবং সব যোগ্য সাবেক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছিলেন তাঁরা। তবে সমাবর্তন স্থগিতের পর নতুন তারিখ বা আয়োজনের অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, সমাবর্তন আয়োজনের জন্য সিন্ডিকেট থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে ইনশাআল্লাহ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে।