চলমান ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৭১০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ লাখ ৮৪ হাজার কোটি টাকা। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠানো পেন্টাগনের এক আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে এ ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।
পেন্টাগনের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বরাদ্দ করা জরুরি সামরিক তহবিলের ৯৭ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি ব্যয় হয়েছে। গত ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, যৌথ মার্কিন-ইসরায়েল সামরিক অভিযানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।
কংগ্রেস কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ব্যয়ের মধ্যে যুদ্ধ পরিচালনার প্রত্যক্ষ খরচের পাশাপাশি ধ্বংসপ্রাপ্ত ও ব্যবহৃত গোলাবারুদ এবং যুদ্ধাস্ত্র পুনরায় সংগ্রহের জন্য প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন বিমানবাহিনীর বিভিন্ন যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানের পেছনে ব্যয় হয়েছে ৭৬০ কোটি ডলার। মধ্যপ্রাচ্যে নিয়মিত টহল ও অভিযানে থাকা দুটি বিমানবাহী রণতরীসহ দুই ডজনের বেশি যুদ্ধজাহাজ পরিচালনায় মার্কিন নৌবাহিনীর খরচ হয়েছে ১৫০ কোটি ডলার। অন্যদিকে, ওই অঞ্চলে মোতায়েন সেনাদের রক্ষণাবেক্ষণে মার্কিন সেনাবাহিনীর ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২০০ কোটি ডলারের বেশি।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী ঘাঁটিতে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত যুদ্ধবিমান ও ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র প্রতিস্থাপনে ৬১০ কোটি ডলার, বিশেষ কমান্ডো বাহিনীর যাতায়াত ও সহায়তায় ৬৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং আহত সামরিক সদস্যদের চিকিৎসায় প্রায় ২ কোটি ৪৫ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে।
এ ছাড়া মার্কিন ট্রান্সপোর্টেশন কমান্ড সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তরে ৯ কোটি ২২ লাখ ডলার এবং সাইবার কমান্ড সাইবার অভিযানে ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে।
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, মার্কিন প্রশাসনের প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয়ের পুরো চিত্র উঠে আসেনি। মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর সংস্কার ব্যয় এবং বিশাল সামরিক বহরের জ্বালানি খরচ এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এদিকে, পেন্টাগনের প্রকাশিত নতুন ব্যয়ের হিসাব নিয়ে সাবেক ও বর্তমান মার্কিন নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সূত্র: আল জাজিরা
kalprakash.com/IM