নেত্রকোণার মদনে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার আলোচিত মামলায় নিজের সব সম্পদের বিনিময়েও অব্যাহতি চেয়েছেন প্রধান আসামি মাদরাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর। তবে মামলাটি আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তির বিষয়ে আসামিপক্ষের আগ্রহে সাড়া দেননি বিচারক। যুক্তিতর্ক শেষে আগামী ১১ নভেম্বর মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) নেত্রকোণা জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুছ সালামের আদালতে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, শুনানির একপর্যায়ে বিচারক আসামির সম্পদের বিষয়ে জানতে চাইলে সাগর জানান, তাঁর মাত্র ১২ শতাংশ জমি রয়েছে। এ সময় নিজের সব সম্পদের বিনিময়ে হলেও মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার আকুতি জানান তিনি। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবী আপসের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে বিচারক তা নাকচ করে দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নূরুল কবীর রুবেল জানান, মামলার ভুক্তভোগী শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে আসামি সাগরের ডিএনএর সঙ্গে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ মামলার বিভিন্ন নথিপত্রে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামির সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
এখন মামলার রায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী ১১ নভেম্বর আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে আলোচিত এ মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসবে।
তবে রায় ঘোষণার আগে আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের মধ্য দিয়েই মামলার বিচারিক সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
kalprakash.com/IM