পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার বাদী ও অন্যতম সাক্ষী মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে তাঁর মরদেহ দাফন সম্পন্ন করে পুলিশ।
এর আগে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানিক পশারীর মরদেহ আনা হলে জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন মরদেহসহ স্বজনরা।
পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ পুলিশ লাইনসে সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মরদেহ ঘিরে রাখে সদর থানা পুলিশ।
পরে রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়। রাত ২টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় মানিক পশারীর স্ত্রী, সন্তানসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের নেতারা এবং অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতা কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করেননি। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা লাশের রাজনীতি করেন না। তাই পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জামায়াত নেতা মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও অন্যতম সাক্ষী ছিলেন।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনি যশোর ও গোপালগঞ্জে পলাতক ছিলেন। দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর তিনি মারা যান।
kalprakash.com/IM