পাসপোর্ট করতে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো, দালালের হয়রানি কিংবা আবেদনপ্রক্রিয়ার জটিলতা নিয়ে অনেকেরই দুশ্চিন্তা রয়েছে। তবে এখন ঘরে বসেই অনলাইনে ই-পাসপোর্টের আবেদন করা যায়। সরকারি ওয়েবসাইটে আবেদন ফরম পূরণ, নির্ধারিত ফি পরিশোধ এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের নির্দেশনা অনুসরণ করলেই পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। তবে ছবি তোলা ও বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার জন্য নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হতে হবে।
ই-পাসপোর্টে একটি ইলেকট্রনিক চিপ থাকে, যেখানে পাসপোর্টধারীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষিত থাকে। এর ফলে পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও নির্ভরযোগ্য হয়।
যেভাবে করবেন ই-পাসপোর্টের আবেদন
ই-পাসপোর্টের আবেদন করতে প্রথমে সরকারি ওয়েবসাইট epassport.gov.bd-এ প্রবেশ করতে হবে। এরপর নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে।
১. অ্যাকাউন্ট খুলুন: সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। এ জন্য সচল ই-মেইল ঠিকানা প্রয়োজন হতে পারে।
২. পাসপোর্ট অফিস নির্বাচন করুন: আবেদনকারীর বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী প্রযোজ্য পাসপোর্ট অফিস নির্বাচন করতে হবে।
৩. আবেদন ফরম পূরণ করুন: নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের সঙ্গে মিলিয়ে নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে।
৪. পাসপোর্টের ধরন নির্বাচন করুন: প্রয়োজন অনুযায়ী পাসপোর্টের পাতার সংখ্যা, মেয়াদ ও সরবরাহের ধরন নির্বাচন করতে হবে।
৫. ফি পরিশোধ করুন: নির্ধারিত নিয়মে পাসপোর্টের ফি পরিশোধ করে পেমেন্টের প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে।
৬. আবেদনপত্র প্রিন্ট করুন: আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদনপত্রের কপি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে।
৭. বায়োমেট্রিক তথ্য দিন: নির্ধারিত তারিখে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিস স্ক্যানসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
ই-পাসপোর্ট করতে যেসব কাগজপত্র লাগবে
আবেদনের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা ভালো। সাধারণত যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে:
- জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনলাইনে যাচাইযোগ্য জন্মনিবন্ধন সনদ
- আগে পাসপোর্ট করা থাকলে পুরোনো পাসপোর্ট
- বাবা-মায়ের পরিচয়সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য
- প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পেশা বা চাকরিসংক্রান্ত নথি, অনাপত্তিপত্র কিংবা অন্যান্য সহায়ক কাগজপত্র
- আবেদনপত্র ও ফি পরিশোধের প্রমাণ
আবেদনকারীর বয়স, পেশা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথির ধরন ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদনের আগে সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।
ই-পাসপোর্ট করতে খরচ কত?
ই-পাসপোর্টের খরচ নির্ভর করে পাসপোর্টের পাতার সংখ্যা, মেয়াদ ও সরবরাহের ধরনের ওপর। প্রচলিত ফি তালিকা অনুযায়ী ৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্টের জন্য বিভিন্ন ফি নির্ধারিত রয়েছে।
প্রচলিত তালিকায় রেগুলার, এক্সপ্রেস ও সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির সম্ভাব্য সময় যথাক্রমে ২১ দিন, ১০ দিন ও ২ দিন উল্লেখ করা হয়। তবে এসব সময় গণনার ভিত্তি এবং প্রকৃত সরবরাহের সময় পরিস্থিতিভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ: ওপরের ফি ও সময়সীমা বর্তমান সরকারি তালিকা থেকে এই মুহূর্তে যাচাই করা হয়নি। আবেদন করার আগে ই-পাসপোর্টের সরকারি ওয়েবসাইটে সর্বশেষ ফি ও সরবরাহের সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।
বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে যা করতে হবে
অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন হলেও ই-পাসপোর্ট হাতে পেতে সরাসরি পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। নির্ধারিত তারিখে আবেদনপত্র, পরিচয়পত্রের কপি, ফি পরিশোধের প্রমাণ এবং পুরোনো পাসপোর্ট থাকলে সেটি সঙ্গে নিতে হবে।
পাসপোর্ট অফিসে আবেদনকারীর ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ নেওয়া ও চোখের আইরিস স্ক্যান করা হতে পারে। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
আবেদন করার আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন
ই-পাসপোর্টের আবেদন নিজে করা সম্ভব হলেও তথ্য পূরণে ভুল হলে পরবর্তী সময়ে সংশোধন বা যাচাইয়ের জন্য বাড়তি সময় লাগতে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে নামের বানান, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম ও ঠিকানা ভালোভাবে মিলিয়ে নেওয়া উচিত।
এ ছাড়া ফি পরিশোধের রসিদ ও আবেদনপত্রের কপি সংরক্ষণ করতে হবে। দালালের সহায়তা না নিয়ে সরকারি ওয়েবসাইটের নির্দেশনা অনুসরণ করে আবেদন করলে অপ্রয়োজনীয় খরচ ও হয়রানি এড়ানো সহজ হতে পারে।
kalprakash.com/IM