দক্ষিণ চীন সাগরকে কেন্দ্র করে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যেই ফিলিপাইনে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত জিং কুয়ানের এক মন্তব্যে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সংঘাত বাধলে চীন সহজেই জয়ী হবে, রাষ্ট্রদূতের এমন বক্তব্যকে বলপ্রয়োগের প্রচ্ছন্ন হুমকি হিসেবে দেখছে ফিলিপাইন। এর কড়া জবাবও দিয়েছে ম্যানিলা।
ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সম্প্রতি চীনকে এ অঞ্চলের ‘ঝামেলা সৃষ্টিকারী’ বা ট্রাবলমেকার বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। মূলত সেই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়েই গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জিং কুয়ান বলেন, ‘যেকোনো সংঘাতে চীন সহজেই জিততে পারে। তবে আমরা শান্তি ভালোবাসি বলে বলপ্রয়োগ করব না।’
রাষ্ট্রদূতের এ মন্তব্যের পর শুক্রবার ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কথাগুলো পুরোপুরি ‘হুমকি’র মতোই শোনাচ্ছে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাষ্ট্রদূতের এমন শব্দচয়ন অত্যন্ত ‘বাজে’ এবং দুই দেশের জটিল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি কোনো কাজেই আসবে না।
তবে চীনা দূতাবাস দাবি করেছে, রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে ম্যানিলা এর ‘অতিরিক্ত ব্যাখ্যা’ দাঁড় করিয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে বলেও সতর্ক করেছে তারা। পাশাপাশি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ম্যানিলার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। তারা আশা করে, ফিলিপাইন বিষয়টি সঠিক ও ব্যাপকভাবে উপলব্ধি করবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ফিলিপাইনের সঙ্গে চীনের এই বাগ্যুদ্ধ অবশ্য নতুন নয়। দক্ষিণ চীন সাগরে ফিলিপাইনের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইইজেড) অন্তর্গত বিভিন্ন প্রবালপ্রাচীর ও দ্বীপের মালিকানা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে দেশ দুটির মধ্যে বিরোধ চলছে। ওই অঞ্চলে দুই দেশের কোস্টগার্ডও বেশ কয়েকবার মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
kalprakash.com/IM