শরতের শেষভাগেই গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অনুভূত হচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে ভোর নামছে কুয়াশার চাদর জড়িয়ে। ঘাসের ডগায় শিশির, দূরের গাছপালা আবছা আর হিমেল বাতাসে বদলে যাচ্ছে প্রকৃতির রূপ।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে তিস্তার চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, কুয়াশা ভেদ করে কাজে বেরিয়ে পড়েছেন কৃষক ও দিনমজুররা। কেউ আমন ধানের জমিতে পরিচর্যা করছেন, কেউ গবাদিপশু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন। সূর্য ওঠার পর কুয়াশা কাটলেও বাতাসে শীতের আমেজ থাকছে।
সুন্দরগঞ্জের তিস্তা চরাঞ্চলে শীতের আগমন কৃষকদের জন্য যেমন নতুন মৌসুমের বার্তা, তেমনি নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য নতুন দুশ্চিন্তা। চলতি বছর কাপাসিয়া, বেলকা, হরিপুরসহ তিস্তা-সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনে বসতভিটা ও আবাদি জমি বিলীন হয়েছে। অনেক পরিবার এখনো অস্থায়ী ঘরে বা অন্যের আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছে।
কৃষক আতিকুর রহমান বলেন, ‘কুয়াশা বাড়লে দীর্ঘ সময় রোদ না উঠলে ধান ও সবজির ক্ষতি হতে পারে। তাই এখন থেকেই কৃষকদের সতর্ক থাকতে হবে।’
চরাঞ্চলে আমন ধানের পাশাপাশি শীতকালীন সবজির আবাদও শুরু হচ্ছে। কৃষকদের আশঙ্কা, ঘন কুয়াশা ও অতিরিক্ত ঠান্ডায় ফসলের রোগবালাই বাড়তে পারে।
শিক্ষক মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘শীত সবার জন্য আনন্দের নয়। নদীভাঙনে ঘর হারানো মানুষের জন্য এটি কষ্টের ঋতু। তাঁদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব।’
স্থানীয় লোকজন জানান, তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন ও বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হওয়ার কারণে সুন্দরগঞ্জে ভাঙন এখন প্রায় সারা বছরের সমস্যা। জিও ব্যাগ ও ব্লক ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
তাঁদের দাবি, শীত তীব্র হওয়ার আগেই ভাঙনকবলিত ও দরিদ্র চরবাসীর জন্য শীতবস্ত্র, নিরাপদ আশ্রয় ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি তিস্তার ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তিস্তার চরে তাই কুয়াশায় ঢাকা শীতের আগমন একদিকে প্রকৃতির সৌন্দর্য, অন্যদিকে ভাঙনে নিঃস্ব মানুষের নতুন শঙ্কার গল্প।
kalprakash.com/IM