সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ | ১৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২২ রবিউস সানী, ১৪৪৮ | রাত ১:২১:১৮
শিরোনাম
● প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ● তেজগাঁও কলেজ সরকারি করার দাবিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে স্মারকলিপি ● যানবাহনের গ্যাসের দাম বাড়াল বিইআরসি ● হাসপাতালে শৃঙ্খলা ফেরাতে মাঠে ৫৪ কর্মকর্তা ● কূটনীতিক বহিষ্কারের মার্কিন দাবি নাকচ আরাঘচির ● সিনাইয়ে গাজার ৪০০ শিশুর স্কুল গড়লেন ফিলিস্তিনি শিক্ষক ● ২০ টাকার আলু ১৪ টাকায় ● এআই প্রযুক্তি ব্যবহারকারী ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ তদারকিতে কিম ● ইন্দোনেশিয়ায় ২ গণ্ডারের গর্ভধারণে বিপন্ন প্রজাতি রক্ষায় নতুন আশার আলো ● সাত শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ খুলবে না ইরান ● প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ● তেজগাঁও কলেজ সরকারি করার দাবিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে স্মারকলিপি ● যানবাহনের গ্যাসের দাম বাড়াল বিইআরসি ● হাসপাতালে শৃঙ্খলা ফেরাতে মাঠে ৫৪ কর্মকর্তা ● কূটনীতিক বহিষ্কারের মার্কিন দাবি নাকচ আরাঘচির ● সিনাইয়ে গাজার ৪০০ শিশুর স্কুল গড়লেন ফিলিস্তিনি শিক্ষক ● ২০ টাকার আলু ১৪ টাকায় ● এআই প্রযুক্তি ব্যবহারকারী ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ তদারকিতে কিম ● ইন্দোনেশিয়ায় ২ গণ্ডারের গর্ভধারণে বিপন্ন প্রজাতি রক্ষায় নতুন আশার আলো ● সাত শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ খুলবে না ইরান

অভিযানের পরও থামছে না ড্রেজারে মাটি কাটা, ঝুঁকিতে হেমায়েতপুর

তোফাজ্জল হোসেন বাবু, পাবনা প্রতিনিধি
তোফাজ্জল হোসেন বাবু, পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৮
শেয়ার: mail
অভিযানের পরও থামছে না ড্রেজারে মাটি কাটা, ঝুঁকিতে হেমায়েতপুর

পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে মাটি কাটার অভিযোগে একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। তবে অভিযানের পরও বন্ধ হয়নি মাটি কাটা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনে-রাতে বড় ড্রেজার বসিয়ে গভীর করে মাটি কেটে ট্রাকে করে বিভিন্ন ইটভাটাসহ নানা স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে আশপাশের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গাছপালা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় সাত-আট বছর ধরে ইসলামপুর এলাকায় দুটি পয়েন্টে এভাবে মাটি কাটা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে মাটি কাটার ফলে কোনো কোনো স্থানে ৭০ থেকে ৮০ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে ইতিমধ্যে আশপাশের সাত-আটটি দরিদ্র পরিবারের বসতভিটা বিলীন হয়ে গেছে বলে অভিযোগ তাঁদের। ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারকে নামমাত্র অর্থ দিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইসলামপুর গ্রামের শাওন প্রামানিক নামের এক ব্যক্তি এসব মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত। দিন-রাত ড্রেজার চালিয়ে মাটি কেটে ট্রাকে করে বিভিন্ন ইটভাটাসহ নানা এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে মাটি কাটা বন্ধ করা হলেও কয়েক দিন পর আবার একইভাবে কার্যক্রম শুরু হয়। বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে তিনি এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এ ছাড়া সেলিম নামের আরেক ব্যক্তিও পাশেই ড্রেজার বসিয়ে দিনরাত মাটি কাটছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের ভাষ্য, দিনরাত মাটি কাটলেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাঁরা দ্রুত ড্রেজার জব্দ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, ড্রেজার জব্দ না করে রেখে গেলে পুনরায় মাটি কাটা শুরু হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্তমানে মাটি কাটার কারণে একটি বসতবাড়ি ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বাড়িটির পাশ থেকে গভীর করে মাটি কেটে নেওয়ায় মাটির ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, এভাবে মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় ধস নেমে ওই বাড়িসহ আশপাশের আরও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

শুধু বসতভিটা নয়, আশপাশের কৃষিজমিও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। তাঁদের অভিযোগ, মাটি কাটার গর্তের কারণে পাশের জমিতে ভাঙন ও ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জমি ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘প্রশাসন অভিযান চালালে কিছুদিন মাটি কাটা বন্ধ থাকে। পরে আবার আগের মতোই ড্রেজার বসিয়ে মাটি কাটা শুরু হয়। বছরের পর বছর ধরে এভাবে চলছে। এখন আমরা বাড়িঘর নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে আছি।’

তাঁদের প্রশ্ন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযান চালানোর পরও একই এলাকায় কীভাবে আবার মাটি কাটার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানের পর নজরদারি না থাকায় মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, মো. শাওনের বাবা আসলাম প্রামাণিক একসময় হেমায়েতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় মাটি কাটার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল বলে তাঁদের দাবি। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও স্থানীয় ও আর্থিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে মাটি কাটা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শাওন প্রামানিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পাবনা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফুয়াদ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এর আগেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নতুন করে যদি অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বলা হয়েছে। তিনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

অভিযানের পরও থামছে না ড্রেজারে মাটি কাটা, ঝুঁকিতে হেমায়েতপুর

বিস্তারিত কমেন্টে