কচুরিপানা খাওয়ার সময় অতর্কিত হামলা; লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া করে গাভী উদ্ধার, আহত পশুকে চিকিৎসা
বাগেরহাটের শরণখোলায় বলেশ্বর নদের চরে কচুরিপানা খাওয়ার সময় একটি গাভীর ওপর কুমিরের হামলার ঘটনা ঘটেছে। কুমিরটি গাভীর পেছনের অংশে কামড় বসিয়ে নদীর দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়রা লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে গিয়ে কুমিরটিকে ধাওয়া করলে সেটি গাভীটিকে ছেড়ে নদীতে চলে যায়। এ ঘটনায় নদীতীরবর্তী এলাকায় কুমিরের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
সোমবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার বগী গ্রামের বলেশ্বর নদসংলগ্ন চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুতুল বেগমের চারটি গরু ওই সময় নদীর চরে জমে থাকা কচুরিপানা খাচ্ছিল। হঠাৎ নদী থেকে একটি কুমির উঠে এসে একটি গাভীর ওপর হামলা চালায়। কুমিরটি গাভীর পেছনের অংশে কামড় দিয়ে সেটিকে নদীর পানির দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করে।
ঘটনাটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত সেখানে ছুটে যান। পরে কয়েকজন লাঠিসোঁটা হাতে কুমিরটির দিকে এগিয়ে গেলে সেটি গাভীটিকে ছেড়ে দেয়। এরপর কুমিরটি আবার বলেশ্বর নদের পানিতে চলে যায়।
স্থানীয়রা জানান, নদীর চর ও তীরবর্তী এলাকায় গবাদিপশু চরানো এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের অভ্যাস। প্রতিদিনের মতো গরুগুলোকে চরাতে নিয়ে যাওয়া হলেও কুমিরের আকস্মিক হামলায় এখন নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জনশূন্য চর এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটায় গবাদিপশু নিয়ে সেখানে যেতে অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
গাভীটির মালিক পুতুল বেগম বলেন, গবাদিপশুই তাঁর পরিবারের আয়ের অন্যতম প্রধান অবলম্বন। কুমিরের হামলায় গাভীটির পেছনের অংশে গুরুতর জখম হয়েছে। এতে পশুটির স্বাভাবিক চলাফেরাও ব্যাহত হচ্ছে।
খবর পেয়ে শরণখোলা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত গাভীটিকে চিকিৎসা দেন।
এদিকে ঘটনার খবর পাওয়ার পর পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের বনরক্ষীদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরীফুল ইসলাম। তিনি জানান, কুমিরটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বলেশ্বর নদসংলগ্ন এলাকায় মাঝেমধ্যে বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি দেখা যায়। কুমিরের এ ধরনের বিচরণ মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুর জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে। তাঁদের দাবি, নদীতীরবর্তী এলাকায় বন বিভাগের নজরদারি ও টহল বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয়দের সতর্ক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
কুমিরের হামলায় গাভী আহত হওয়ার ঘটনাটি সামনে আসার পর বলেশ্বর নদের তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গবাদিপশু চরানো এবং নদীতীরবর্তী এলাকায় মানুষের চলাচলের ক্ষেত্রে এখন বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
kalprakash.com/IM