আয়কর রিটার্ন বা বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা দিয়ে করছাড় পাওয়ার সময় আজ শেষ হচ্ছে। বুধবারের (৩০ সেপ্টেম্বর) মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে যত টাকা কর দিতে হবে, তার ওপর ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা করছাড় পাওয়া যাবে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই নতুন নিয়ম চালু করেছে।
যেভাবে পাওয়া যাচ্ছে এই সুবিধা
কারও গত বছরের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত করযোগ্য আয় ৭ লাখ টাকা হলে তাঁর প্রথম চার লাখ টাকার ওপর কোনো কর নেই। বাকি তিন লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। রিটার্ন জমার সময় তাঁকে এই কর পরিশোধ করতে হয়। তিনি যদি আজ বুধবারের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দেন, তাহলে প্রদেয় করের ৫ শতাংশ ছাড় পাবেন। অর্থাৎ ১ হাজার ৫০০ টাকা করছাড় পাবেন। তখন করছাড় বাদ দিয়ে তাঁকে ৩০ হাজার টাকার পরিবর্তে ২৮ হাজার ৫০০ টাকা কর পরিশোধ করতে হবে।
কারা পাবেন না
নতুন নিয়মে শুধু রিটার্ন জমার সময় প্রদেয় করের ওপর করছাড় মিলবে। কিন্তু সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তোলার সময় যে অগ্রিম কর কেটে রাখা হয়েছে, ব্যাংক থেকে এফডিআরের মুনাফা তোলার সময় যে উৎসে কর কেটে রাখা হয়েছে, এমন করের ওপর করছাড় মিলবে না। এমনকি বেতন-ভাতার ওপর প্রতি মাসে যে অগ্রিম কর দিয়ে এসেছেন, তাতেও করছাড় পাওয়া যাবে না।
সহজ কথায়, কেউ সারা বছর যেসব অগ্রিম বা উৎসে কর দিয়ে এসেছেন, তা রিটার্ন জমার সময় বাদ দিয়ে নিট যে কর দেবেন, কেবল তার ওপরই এই করছাড় পাওয়া যাবে। তবে যাঁরা নিয়ম মেনে সারা বছর কর দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট করদাতারা।
করছাড়, নির্দিষ্ট সময়ের পর শাস্তি
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা ২৫ হাজার টাকা (যা কম) ছাড় পাওয়া যাবে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) রিটার্ন দিলে কোনো প্রণোদনা পাওয়া যাবে না। আর জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের অতিরিক্ত ২ শতাংশ বা সর্বনিম্ন ৩ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। এপ্রিল-জুন মাসে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের অতিরিক্ত ৫ শতাংশ বা সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।
kalprakash.com/IM