দেশের ভোক্তাদের কাছে মানসম্মত ও বিশ্বস্ত খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি এবার আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্যের পরিচিতি বাড়াতে কাজ করছে ঘরেরবাজার। এরই অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত Malaysia International Halal Showcase (MIHAS) 2026-এ অংশ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরের Malaysia International Trade and Exhibition Centre (MITEC)-এ বসেছে ২২তম MIHAS। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ হালাল বাণিজ্য প্রদর্শনীগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এ আয়োজনে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্য নিয়ে অংশগ্রহণ করছে ঘরেরবাজার। আন্তর্জাতিক ক্রেতা, পরিবেশক ও সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদারদের কাছে দেশের খাদ্যপণ্যের বৈচিত্র্য ও মান তুলে ধরাই এ অংশগ্রহণের অন্যতম লক্ষ্য।
ঘরেরবাজারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের বাইরে থাকা বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির পণ্যের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। প্রবাসীরা নিজেদের পরিবার ও স্বজনদের জন্য দেশের পরিচিত স্বাদ ও মানসম্মত খাদ্যপণ্য সংগ্রহে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। সেই চাহিদাকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক বাজারেও নিজেদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি ঘরেরবাজারের প্রথম অংশগ্রহণ নয়। এর আগে সৌদি আরবের Agrofood Jeddah এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের Gulfood Dubai-তেও অংশ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের জন্য নতুন বাজার ও ব্যবসায়িক অংশীদার তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ঘরেরবাজার।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। যুক্তরাজ্য, পোল্যান্ড, জার্মানি ও ফ্রান্সের বাজারেও পৌঁছেছে ঘরেরবাজারের পণ্য। এতে একদিকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে দেশের পরিচিত খাদ্যপণ্য সহজলভ্য হচ্ছে, অন্যদিকে বিদেশি ভোক্তাদের কাছেও বাংলাদেশের কৃষিপণ্য ও খাদ্যঐতিহ্য তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
ঘরেরবাজারের রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে সরিষার তেল, ঘি, প্রাকৃতিক মধু, বিভিন্ন ধরনের মসলা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য। দেশীয় বাজারে পণ্যের মান, বিশুদ্ধতা ও বৈশিষ্ট্য বজায় রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা ও মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
ঘরেরবাজারের আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণকে শুধু ব্যবসায়িক উদ্যোগ হিসেবে দেখছে না প্রতিষ্ঠানটি। তাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য, কৃষিজ বৈচিত্র্য এবং ঐতিহ্যবাহী রন্ধনসংস্কৃতিকে আরও বড় পরিসরে বিশ্ববাজারে তুলে ধরা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।